প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জ উপজেলার কালিরবাজার কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও গৃহবধূ মাজেদা আক্তার (১৯) খুনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে শ্বাসরোধসহ বিভিন্নভাবে হত্যার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ থাকলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্টে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করায় নিহত মাজেদার পিতা আমান উল্লা হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন। এদিকে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেয়ে পুলিশও বিস্মিত হয়ে গেছে।
গত ২২ এপ্রিল মাজেদাকে তার শ্বশুর বাড়িতে নিযার্তন পূর্বক হত্যার অভিযোগে তার মা শামছুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে পরদিন ২৩ এপ্রিল তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে নিহত মাজেদা আক্তারের স্বামীসহ ৪জনকে আসামী করে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য চাঁদপুর প্রেরণ করে। এরপর গত ৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সফিউল আযম মাজেদার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পান। সেখানে মাজেদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি জানান, লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় নিহত মাজেদার শরীরে যেসব চিহ্ন দেখা গেছে, সে অনুযায়ী এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া গলায় ফাঁস দিলে যে ধরনের আলামত পাওয়া যায় তার কিছুই ওই সময় দেখা যায়নি বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক জানান, মাজেদার লাশ থানায় নিয়ে আসার পর তিনি নিজেও ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ওই সময় তার কাছে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হয়েছে। যা তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে নিহত মাজেদার পিতা আমান উল্লা আমান জানান, তিনি এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজিসহ পুনঃ ময়না তদন্তের আবেদন করবেন। তিনি জানান, হত্যাকারীরা টাকার বিনিময়ে রিপোর্ট পাল্টে ফেলেছে। মাজেদার ঘরে ওইদিন আত্মহত্যার কোনো আলামত না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সে আত্মহত্যার পর কে বা কারা তাকে বিছানায় চাদর মুড়ি দিয়ে শুইয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি যদি আত্মহত্যাই হয় তবে মাজেদার স্বামী মাইন উদ্দিন কেনই বা পালালো। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য আসামীদের পক্ষে জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক লোক তাদেরকে হুমকি-ধমকি ও চাপ প্রয়োগ করছে। মামলার বাদী মাজেদার মা শামছুনাহার জানান, ২৩ এপ্রিল সকালে মাইন উদ্দিনের পরিবারের লোকজন তাদের ফোনে সংবাদ দেয় মাজেদা মারা গেছে। সংবাদ পেয়ে তিনি তার মেয়ে সাজেদাসহ আত্মীয়স্বজনরা এ বাড়িতে ছুটে আসেন। সেখানে তারা দেখতে পান বিছানার উপর মাজেদার নিথর দেহ যেভাবে পড়ে আছে তাতে মনে হয়েছে, তাকে জবরদস্তি করে মেরে বিছানায় ফেলে রেখেছে। ওই সময় মাজেদার শ্বশুর আঃ করিম তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তিনি মাইন উদ্দিনকে ডাক দিলে মাইন উদ্দিন ঘরের দরজা খুলে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পুনরায় মাজেদাকে ডাকলে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে বিছানার উপর মাজেদার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই যা ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আরো জানান, মাজেদা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো।
