ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :ফরিদগঞ্জে গ্রাহকদের প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বিডি লিংক সিস্টেম লিমিটেড নামের একটি এমএলএম কোম্পানি। গত প্রায় ৩ মাস ধরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়েছে তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন পর রোকসার ও মানিক নামের দুই পরিচালক গোপনে স্থানীয় শাখা অফিসে আসে।
সংবাদ পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে শত শত গ্রাহক এসে জড়ো হন। তারা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও দুই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করে। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় মুচলেকা দিয়ে আপাতত ছাড়া পায় তারা।
ফরিদগঞ্জ থানা রোডের বিডি লিংকের অফিস ঘেরাও করতে আসা বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিডি লিংক নামের ওই কোম্পানিটি ফরিদগঞ্জে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠকর্মীর মাধ্যমে ৫৩৬ জন আমানতকারী সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং ৫ হাজার ৫০০ টাকার একটি প্যাকেজের নামে ২ হাজার ২৭২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আরও প্রায় সোয়া কোটি টাকা নিয়ে যায়।
এদিকে কিছু কিছু আমানতকারী মেয়াদ শেষে তাদের টাকা ফেরত চাইলে তারা টালবাহানা শুর“ করে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানির কর্মকর্তারা ৩ মাস আগে অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। যার কারণে প্রতিনিয়ত শত শত গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত নিতে এসে বিপাকে পড়ে যান।
উপজেলার চরভাগল গ্রামের মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তিনি অধিক মুনাফার আশায় এই কোম্পানিতে ১৮ লাখ টাকা আমানত করেছেন। কিন্তু কোম্পানির লোকজন এমন প্রতারণা করবেন তা তারা ভাবেননি। এখন টাকা হারিয়ে তিনি দিশেহারা। কাছিয়াড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাটিরগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমান, রায়পুরের চরপাতা গ্রামের সালমা আক্তার ও দক্ষিণ কাঁসারা গ্রামের বিউটি আক্তারের মতো উপস্থিত শত শত গ্রাহক টাকা হারিয়ে এখন পাগলপ্রায়।
এ ব্যাপারে বিডি লিংকের এমডি এমএ মোমেন মোবাইল ফোনে বলেন, গ্রাহকদের দায় আমি এড়াতে পারি না, কিন্তু টাকা জমা হয়েছে সরাসরি চেয়ারম্যানের নামে। সম্প্রতি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন উধাও হয়ে গেছেন। এরপর গত প্রায় ৩ সপ্তাহ আগে পরিচালক রোকসার হোসেন, আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ইমাম হোসেন স্থানীয় গাব্দেরগাঁও মৌজায় আমার নামে খরিদকৃত ৮১ শতক জমি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে ও ১০ লাখ টাকার একটি চেক এবং মোটরসাইকেল নিয়ে যায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেয়ার জন্য।
