প্রতিনিধি
চুরি, ডাকাতি, হাইজ্যাক, কসাইদের মতো গলা কাটা নাকি টাকা ছিনতাই, অভিভাবকরা এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না। ফরম ফিলাপ নয় তো যেনো টাকা কামাইয়ের মহোৎসব চলছে। ফরিদগঞ্জে এসএসসি ও দাখিলের ফরম ফিলাপের নামে সত্যি এসব কি হচ্ছে? গত দুদিন সরজমিনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফরম ফিলাপের নামে পকেট কাটার প্রমাণ মিলে ।
ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম কামতা মাদ্রাসায় গেলে বাইয়ে সাঁটানো একটি কাগজে দেখা যায়, বিভিন্ন নামের ফি মিলিয়ে দাখিলের ফরম পূরণে ৪ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এ সময় অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে না পেয়ে উপাধ্যক্ষের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য অন্যান্য ফির ধরা হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি জানান, তারও বিভিন্ন পত্রিকায় বড় বড় পরিচিত সাংবাদিক আছে। ইউএনও, জেলা প্রশাসক এবং সরকার পক্ষ একটি নিয়ম করে দিলেই হবে না, আমাদেরও কিছু সিদ্ধান্ত থাকতে পারে বলে তিনি জানান। গল্লাক হাই স্কুলের ছাত্র এবং অভিভাবক মারফত জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে কারো কাছ থেকে ৪ হাজার, আবার কারো কাছ থেকে ৮ হাজার টাকাও নেয়া হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আঃ হান্নানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অনেকের কাছ থেকে কম নেই, আবার কারো কাছ থেকে বেশি নিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করতে হয় । আস্টা মহামায়া পাঠশালার ছাত্র ও অভিভাবকদের থেকে জানা যায়, ১ বিষয়ে ক্রস গেলে ৫শ’ টাকা এ হিসেবে সেখানে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফরম ফিলাপে নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে ঐ বিদ্যালয়ে গেলে কিছু শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক সকালে এসে চলে গেছেন, কিছু শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক এখনও আসেন না, আবার কিছু শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক কোনো দিন বিদ্যালয়ে ঠিক মতো থাকেন না কিন্তু হাজিরা খাতায় ঠিকই হাজিরা থাকে। এ সময় ফরম ফিলাপের দায়িত্বরত শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, যা কিছু করা হয় কমিটির মাধ্যমেই করা হয়। পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, এখানে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। অভিভাবক এবং চৌরাঙ্গি বাজারের লোক মারফত জানা যায়, এখানে কোনো কোনো ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবককে ১২ হাজার টাকাও নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া এ বিদ্যালয়ে ক্রস ফির নামে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে তারা জানান। এ বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় জনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খাতায় লেখা হচ্ছে। এ সময় প্রধান শিক্ষকসহ কজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে তাই একটু বেশি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা জানান, বালিথুবা আঃ হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়, মূলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বড়গাঁও হাইস্কুল, শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, শোল্লা মাদ্রাসা, শোল্লা আশেক আলী স্কুল এন্ড কলেজ গাজীপুর হাইস্কুল, বালিথুবা মাদ্রাসা, গাজীপুর মাদ্রাসা, কড়ৈতলী মাদ্রাসা, ইসলামপুর মাদ্রাসাসহ ফরিদগঞ্জের প্রায় প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সরকারি সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের মন মতো গলাকাটা ফরম ফিলাপের ফি আদায় করে নিচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্তকে কোনো অভিভাবক কোনো ছাত্র-ছাত্রী মেনে নিতে পারছে না। এসব বিষয়ে ফরিদগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কোনো ছাত্র-ছাত্রী অথবা অভিভাবক লিখিত আকারে কোনো অভিযোগ দিলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
