ফরিদগঞ্জে এক বখাটে ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এক পরিবার। পরিবারটির বিয়ে দেবার উপযুক্ত দুটি মেয়ে ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছে না। শুধু তাই নয়, পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিনা কারণে বেদম মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে ওই দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ওই পরিবারের তিন সদস্য হাসপাতালে কাঁতরাচ্ছে। এ যেনো বখাটে মাস্তানদের রাম রাজত্ব।
খোঁজ নিয়ে ও অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, উপজেলার দেইচর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল খালেক, স্ত্রী, ৬ ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে তার সংসারে থেকে জীবন যাপন করছে। এর মধ্যে শুধু বড় মেয়ে জোৎস্না বেগমকে বিয়ে দিয়েছেন। পান্না বেগম (২২) ও পেরু বেগম (২০) নামে ঘরে এখনো দুটি মেয়ে রয়েছে। আর্থিক সঙ্কটের কারণে এদের বিয়ে দিতে পারছেন না আব্দুল খালেক। আর এই দুই মেয়ের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশি শহীদউল্যাহর ছেলে মাসুদের। এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও লম্পট হিসেবে পরিচিত এই মাসুদ তার সঙ্গী আল-আমিন ও মোতালেবকে সঙ্গে নিয়ে পান্না বেগম ও পেরু বেগমকে সম্বমহানীর চেষ্টা করে। এতে বাধা পেয়ে গত রবিবার দিনমজুর আব্দুল খালেকের পুকুরের মাছের পোনা ধরে নিয়ে যায় তারা। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে মাসুদ তার সহযোগীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আব্দুল খালেকের পরিবারের উপর। তারা বেদম মারধর করে আব্দুল খালেক, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও মেয়ে জোৎস্না বেগমকে। হামলাকারীরা বেদম পিটুনি দিয়ে তাদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। পরে ফরিদগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন (২৪) জানান, আমিও ওদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া। এখন বিয়ে উপযুক্ত ছোট দুই বোন বাড়িতে। তাদেরকেও উঠিয়ে নিয়ে যাবার জন্য মাসুদ ও তার লোকজন হুমকি ধমকি দিচ্ছে। ফলে সম্বম বাঁচাতে পান্না ও পেরু এখন গৃহবন্দি জীবন যাপন করছে। ঘটনা সম্পর্কে সোমবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক জানান, থানায় অভিযোগ দেয়া হলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

