প্রতিনিধি
অনেকেই কথার কথায় বলে, ‘বোবার কোনো শত্রু নেই’। তারপরও ফরিদগঞ্জের খাজুরিয়া এলাকার ষোলদানা গ্রামে হতদরিদ্র বাক্ প্রতিবন্ধী (বোবা) সুমনকে পিটিয়ে বোবার শত্রু আছে বলে জানান দিলো এক দুর্বৃত্ত। শরীরের জখম নিয়ে সুমন বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। যাকে দেখে তার সামনেই ফ্যাল ফ্যালিয়ে ইশারায় ইংগিতে নিজের যন্ত্রণার কথা বলে যাচ্ছে বাক্ প্রতিবন্ধী ওই যুবকটি। ঘটনাটি ঘটেছে ইউপি নির্বাচনের পরদিন গত রোববার ফরিদগঞ্জের গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামে। তবে উক্ত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রবিন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার যুবকটির পরিবারের সদস্যরা জানান, নির্বাচনের পরদিন গত রোববার সকালে ৬নং (পশ্চিম) গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামে বাড়ি যাওয়ার পথে হতদরিদ্র পরিবারের যুবক বাক্ প্রতিবন্ধী সুমনকে পিটিয়েছে প্রতিপক্ষরা। আহত সুমনের বাবা আকতার মিজি ও তার মা ফাতেমা জানান, তাদের বোবা ছেলেটি উক্ত ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বুলবুলের আনারসের পক্ষে থেকে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা আজাদ হোসেন রবিন বেধড়ক পিটিয়ে সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের ওই নেতা আজাদ হোসেন রবিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, মূলত বোবা সুমন একটি ছোরা নিয়ে আমার বাবা আমিন উল্লাকে মারতে আসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এক পর্যায়ে সুমনকে ভয় দেখিয়ে দূরে সরানোর জন্যে লাঠি দিয়ে সামান্য আঘাত করেছি মাত্র। তবে এ সময় আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। দূর থেকে একটি ইট উড়ে এসে বোবা সুমনের মাথা ফেটে যায়। আর এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গতকাল ৪ জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। তবে বোবা সুমনকে আমি অভিযুক্ত করিনি।
