মো. শিমুল হাছান
গত ২৯ জুলাই ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিন ইউনিয়নের চরমঘুয়া গ্রামের হরমন আলী বেপারী মৃত- মো. সেলিম ওরপে সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে জাহেদা আক্তার মিশু হত্যা কান্ডের সাথে আমাদেরকে জড়ানো হয়েছে।
২ বছর আগে চরদুখিয়া উত্তর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবাসী সোহেলের ইসলামী শরীয়া মোতাবেক মিশুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী সোহেল প্রবাসে থাকায় জাহেদা আক্তার মিশু বাবার বাড়ীতে থাকতো। বাবার বাড়ীতে থাকা কালিন পাশ^বর্তী বাড়ীর আবুল বাশারের ছেলে বখাটে ও মাদক ব্যবসায়ী সুজন (২৮) মিশুকে বার বার আপত্তিকর প্রস্তাব দিলে মিশু রাজী না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র বগী দা দিয়ে মিশুকে উপর্যপূরি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় মিশুর চিৎকারের শব্দ শুনে তার মা ছালেহা বেগম ছুটে এসে দেখে ঘাতক সুজন হাতে রক্ত মাখা দা নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে এবং মিশুর মাকে দা নিয়ে তেড়ে আসে। মিশুর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের পড়ে থাকতে দেখে।
এব্যাপারে মিশুর শ্বশুর ছেলামত বলেন, আমরা এই হত্যা কান্ডের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও আমাদেরকে জড়িয়ে মিশুর যেঠা সেকান্দার মেম্বার হয়রানি করার জন্য মিথ্যা ভাবে মামলায় জড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে সোহেল বিদেশ যাওয়ার সময় মিশুর পরিবারের কাছ থেকে যৌতুক বাবদ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন, আমার ছেলে বিবাহের ৩বছর পূবেই বিদেশ গিয়েছিল। বিবাহের সময় সকল কিছু দিয়ে আমরা মিশুকে সাজিয়ে এনেছি। আরো বলেন আমাদের সঙ্গে মিশুর পরিবারের কারো সঙ্গে কোন দরনের দ¦ন্দ্ব ছিলনা। বিয়ের দুই বছর পর মিশু আমার ছেলের ভাত খাবেনা বলে মিশুর বাবার বাড়িতে চলে যায়। এই নিয়ে ২বার উভয় পরিবারের মধ্যে কথোপকথন হলে মিশুর অভিভাবক পরে জানাবেন বলে জানান। গত ২৯ জুলাই দিন শেষে আমরা লোক মুখে শুনি মিশুর কথিত প্রেমিক সুজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং এই হত্যায় আমাদেরকে জড়ানো হয়েছে তাই ভয়ে আমরা তাকে দেখতে যাইনি। আমরা মিশুর হত্যাকারী সুজনের ফাঁসি চাই।
এবিষয়ে মামলার বাদী মিশুর মা ছালেহা বেগম জানান, নৃসংশ ভাবে আমার মেয়ে মিশুকে খুন করেছে ঘাতক সুজন। মিশুর জামাই ও তার পরিবার এ বিষয়ে জড়িত আছে বলে আমার বোধগম্য না।
এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব বলেন, আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে সুজন। মামলাটি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে যাহারা নির্দোশ তাদেরকে মামলা অব্যাহতি দেওয়া হবে।
