
ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
প্রবাসী স্বামী গত ৮ বছর ধরে খোঁজ খবর রাখে না, স্বামীর বাড়িতে গেলেও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে তাকে পেতে হয় বঞ্চনা। গত এক বছর পূর্বে ভুয়া তালাকনামা সৃজন করে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বারবার চেষ্টা করেও তাতে সফল না হওয়ায় সর্বশেষ স্বামীর শেষ ঠিকানা বসতঘরটি ভেঙ্গে এবং তাকে পিটিয়ে আহত করে প্রায় বাড়িছাড়া করেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এমনই অভিযোগ করে প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার আদশা মোল্লা গ্রামের প্রবাসী ইমাম হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম। আর কোনো উপায়ন্তর না দেখে থানা পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার পর থানায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে নাছিমার দেবর সুমন মোল্লা ও ননদের জামাতা মাইন উদ্দিন বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন বলে দু কন্যা সন্তানের জননী নাছিমা বেগম জানান।
এদিকে ঘটনার ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করে নাছিমার শাশুড়ি রেজিয়া বেগম জানান, তার ছেলে বিদেশ থেকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তালাকনামা পাঠিয়েছে। কিন্তু নাছিমা তা এড়িয়ে জবরদস্তিমূলকভাবে তাদের ঘরে থাকার চেষ্টা করছে। এসব সমস্যা নিয়ে এলাকায় অন্তত ৮/১০ বার সালিস হলেও তার পুত্রবধূ রায় না মেনে আইনের আশ্রয় নিয়েছে। সর্বশেষ ঘর ভাঙ্গার নাটক সাজিয়ে তাদের হয়রানি করছে।
জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর পূর্বে উপজেলার আদশা গ্রামের প্রবাসী ইমাম হোসেনের সাথে নাছিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাছিমার কোলজুড়ে দু কন্যা সন্তান এলেও গত ৮ বছর ধরে স্বামী প্রবাস থেকে আসেও না এবং স্ত্রী ও দুই মেয়ের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। নাছিমা বেগম জানান, এ অবস্থায় তিনি তার বাপের বাড়ির লোকজনের সহায়তায় কোনোরকমভাবে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে আছেন। সর্বশেষ গত এক বছর পূর্বে ইমাম হোসেনের নামে একটি তালাক নামা তার কাছে আসে। যা পরবর্তীতে জাল ও ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে শ্বশুর বাড়ির লোকজন স্বামীর কাছে নানাধরনের অভিযোগ দিয়ে তার মন বিষিয়ে তুলেছে। ফলে তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ করছে না। সর্বশেষ তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাকে তাড়িয়ে দিতে সালিসের মাধ্যমে সকল ব্যবস্থা নেয়। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত পরকীয়াসহ যাবতীয় অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় চলে আসবেন। কিন্তু তারা তাতে ব্যর্থ হয়ে তার বসতঘর ভেঙ্গে দিয়ে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা (নং- ১৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ তাং- ১২.১১.২০১৪) দায়ের করলে পুলিশ প্রথমে তার দেবর সুমন মোল্লা এবং আদালতে হাজিরা দিতে গেলে মাইন উদ্দিনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে নাছিমার মামা শ্বশুর ও সালিস আবুল কালাম মোল্লা জানান, তারা বারবার সালিসে বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও নাছিমা এ পর্যন্ত কোনো রায়ই মানেনি।
