প্রতিনিধি
মানুষ মানুষের দাস নয় মানুষ সৃষ্টি আল্লাহর
—- — ——- ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান
বিজয় মানে আনন্দ, বিজয় মানে চেতনা, বিজয় মানে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি। লাখ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আল্লাহর অপার মহিমায়, অগনিত নেয়ামতের সম্ভার বাংলাদেশ শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি লাভ করে একটি জাতীয় পতাকার অধিকারী হয়েছে। আজ ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে গোটা জাতির সাথে ঐতিহ্যবাহী ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসায় সকাল ৯টায় মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে মাদরাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষনে ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে বিজয় হলো ঈমান, আকীদা, আমলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল বাধা অতিক্রম করে মুক্তিলাভ করা। মায়ের ভাষায় কথা বলার পথে যারা প্রতিবন্ধক তাদের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশের জনগন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে বিজয় অর্জন করেছে। ড. মাহবুব বলেন, মানুষ মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করে যতক্ষণ আল্লাহর বান্দা হিসেবে মাথা উচু করে দাড়াতে না পারবে ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত হয় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দূর্নীতির বিরুদ্ধে। আমাদেরকে জঙ্গীবাদ মুক্ত, দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেয়ার সংগ্রামে সবাইকে আত্মত্যাগ করতে হবে। মনে প্রানে এ দেশকে ভালবাসতে হবে। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের অবদানকে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনকারীদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যারা এ অবদানকে অস্বীকার করে তাদের স্থান এ জমিনে হওয়া উচিত নয়।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা এইচ এম আনোয়ার মোল্লা, প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা মমিনুল ইসলাম খান, সিনিয়র আরবি প্রভাষক মাওলানা মাহফুজুর রহমান, ছাত্র জমিয়তের সেক্রেটারী মুহাম্মদ শাহ জালাল, জয়েন্ট সেক্রেটারী আবুল হাসান মুহাম্মদ বায়েজীদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক ও ছাত্রগণ সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। কুরআন তিলাওয়াত করেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বক্তাগণ স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ দেশের হক্কানী ওলামায়ে কেরাম স্বাধীনতার পক্ষে ছিল এখনও আছে, যারা আলেম সমাজকে ঢালাও ভাবে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা সত্যকে অস্বীকার করছেন, দেশের জনগণকে ভাগ করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছেন। এ দেশের হক্কানী আলেম সমাজ সব সময় স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে ছিলেন এখনও করে যাচ্ছেন। বক্তাগণ বলেন, বৃটিশ খেদাও আন্দোলনে আলেমরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন, পাকিস্তান সৃষ্টিতে আলেমদের ভূমিকা ছিল মূখ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে হক্কানী আলেমদের সমর্থন ও দোয়া ইতিহাস হয়ে আছে। আলোচনা সভা শেষে দেশের সমৃদ্ধি জন্য এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

