স্যাটেলাইট যুগে বাংলাদেশ! মহাকাশে বাংলাদেশ!! তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্বমর্যাদায় বাংলাদেশ!!!
সাহসী সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে মহাকাশে স্থান পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’। ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান লেখা স্যাটেলাইটটি গত রাতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সব আয়োজন করা হলেও আবহাওয়ার কারণে মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা বাড়ল আজ শুক্রবার পর্যন্ত। স্যাটেলাইটটি আজ রাতে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে স্যাটেলাইট অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কম্পানি ‘স্পেসএক্স’-এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের তৈরি এ স্যাটেলাইটের ওজন সাড়ে তিন হাজার কেজি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১০ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট) মধ্যে যেকোনো সময় এটি উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ছিল। একপর্যায়ে স্পেসএক্স স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৪২ মিনিট) উৎক্ষেপণ সময় নির্ধারণ করে। পরে আরো এক ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে উৎক্ষেপণ সময় নির্ধারণ করা হয় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিট)। তবে ওই সময়ের ঠিক আগ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ ওই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। নতুন সময় অনুযায়ী স্থানীয় সময় আজ বিকেল ৪টা ১৪ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ৪টা ২১ মিনিট) মধ্যে যেকোনো সময় এটি উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ হলে এটি হবে পদ্মা সেতুর পর দেশবাসীর জন্য দ্বিতীয় গর্বের বিষয়।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের কক্ষপথ হবে ৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে। উৎক্ষেপণের পর এয়ার ট্রাফিকের কারণে এটি মহাকাশে নিজ কক্ষপথের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছতে আট থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। এরপর স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশে নির্মিত দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে। বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে আরো তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্যাটেলাইটটির বিস্তৃতি হবে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত।
স্যাটেলাইটটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেড নামে একটি কম্পানি গঠন করা হয়েছে। কম্পানির বর্তমান জনবল ১৮ জন প্রকৌশলীসহ ৩৫ জনের মতো। ভূমি থেকে উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি ‘গ্রাউন্ড স্টেশন’।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। মিয়ানমারও সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নেপাল ও ভুটান কাজ করছে ন্যানো স্যাটেলাইট নিয়ে। তবে বাংলাদেশের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টায় গত বছর ৪ জুন এক কেজি ওজনের একটি ন্যানো স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়। তিন দিন পর ৭ জুলাই এটি তার কক্ষপথে যাত্রা শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে গতকাল ফ্লোরিডায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সরকারের ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। এ ছাড়া সাংবাদিকসহ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে সেখানে জড়ো হয়। এদের মধ্যে ৪০ জনের উৎক্ষেপণস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে প্রথম গ্যালারি থেকে এবং ২০০ জনের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় গ্যালারি থেকে উৎক্ষেপণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার ব্যবস্থা করা ছিল। এ ছাড়া পাঁচ কিলোমিটার দূরে অন্য একটি উন্মুক্ত স্থান থেকেও এ দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় হিলটন হোটেলে প্রীতি সমাবেশ, নিবন্ধন ও ডিনার পর্ব হয়। তা ছাড়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের চূড়ান্ত বৈঠকও হয়েছে।
সকাল ও সন্ধ্যার এ বৈঠক দুটিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গতকাল জানিয়েছিলেন, স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইট, লঞ্চার ও লঞ্চিং প্যাড রেডি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, লঞ্চার বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিনে লঞ্চিং প্যাডে নিয়ে রাখা হয়। ফ্লোরিডার সময় বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিট) স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ হবে। তিন মিনিটের মধ্যে (১৬২ সেকেন্ড) উৎক্ষেপণ শেষ হবে। এরপর রকেটে করে স্যাটেলাইট মহাকাশে বাংলাদেশের ভাড়া নেওয়া অরবিটাল স্লট ১১৯.৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে যাবে। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ওই অরবিটাল স্লট ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তিনটি ক্যাটাগরিতে সেবা দেবে। ব্রডকাস্টিং, টেলিকমিউনিকেশন ও ডাটা কমিউনিকেশন সেবা দিয়ে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি করবে।’
সেবা : এই স্যাটেলাইট থেকে দেশ কী ধরনের সেবা পাবে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ১৪টি সি এবং ২৬টি কেইউ ব্যান্ডের। ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। এই স্যাটেলাইটে বিদেশনির্ভরতা কমবে। বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রতিবছর এক কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ হয়। নিজস্ব স্যাটেলাইট হলে এ টাকা দেশেই থাকবে।
এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচারভিত্তিক সেবা প্রসার সহজতর হবে। বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে অবসান হবে পরনির্ভরশীলতার। ডিটিএইচ, ভিডিও ট্রান্সমিশন, ভি-স্যাট, প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, পয়েন্ট টু পয়েন্ট কানেকশন—এসব সেবা সহজ হবে। প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্বের অভিজাত দেশগুলোয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।
তবে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অরবিটাল পজিশনের কারণে তাদের সম্প্রচারে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। গত ২৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে অবশ্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, এটির অ্যাঙ্গেল ১৫ ডিগ্রির কম হলে সমস্যা হতো। কিন্তু রয়েছে ৪৭ ডিগ্রি। সে কারণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
১০ বছরের প্রচেষ্টা : দেশের প্রথম এই যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইটের বিষয়ে বিটিআরসি ২০০৮ সালের এপ্রিলে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ২০১০ সালে পুনর্গঠন করা হয়। এরপর তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১০ সালে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। এতে সাড়া দেয় বিভিন্ন দেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তাদের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। এরপর ‘সরকারি ক্রয় নীতি (পিপিআর)-২০০৮’ অনুসরণ করে ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) যথাযথ প্রতিষ্ঠান বিবেচিত হয়। এসপিআইয়ের কাজ হচ্ছে উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আইটিইউয়ের সঙ্গে তরঙ্গ সমন্বয়, স্যাটেলাইট সার্ভিস ডিজাইন, স্যাটেলাইট আর্কিটেকচারাল ডিজাইন, সিস্টেম ডিজাইন, দরপত্র প্রস্তুত, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সুষ্ঠুভাবে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ। এ ছাড়া জনবল তৈরিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া। ২০১২ সালের ২৯ মার্চ এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রুস ক্রাসলসকি তাঁদের সঙ্গে বিটিআরসির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার পর বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে।
এদিকে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের অনেকেরই ধারণা, বাংলাদেশ আইটিইউ থেকে নিজস্ব অরবিটাল লোকেশন ও প্রয়োজনীয় ফ্রিকোয়েন্সি পায়নি। এ ছাড়া প্রক্রিয়াটিও অনেক জটিল। এ কারণেই রাশিয়া থেকে অরবিটাল পজিশন ভাড়া নিতে হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ১৪৭তম সভায় এ বিষয় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আইটিইউ থেকে নিজস্ব অরবিটাল লোকেশন ও প্রয়োজনীয় ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়া একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার বিষয়। এ কারণে যথাসময়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিশ্চিত করার জন্য বিটিআরসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) অন্য কোথাও থেকে অরবিটাল পজিশন ভাড়া বা কেনার পরামর্শ দেয়।
এসপিআই জানায়, রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্পুটনিক তাদের মালিকানাধীন অরবিটাল লোকেশন ১১৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ইন্টারস্পুটনিক বাংলাদেশকে এসপিআইয়ের মাধ্যমে এই তাগাদা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বড়মাপের স্যাটেলাইট অপারেটর তাদের ওই অরবিটাল পজিশন ভাড়া বা কিনে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। এরপর এ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট কেনে বাংলাদেশ। এ জন্য খরচ হয় ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বিটিআরসির বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বিষয়ে মূল কাজ শুরুর চুক্তি সই হয়।
বিটিআরসি সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন বা আইটিইউতে বাংলাদেশের নিজস্ব অরবিটাল পজিশন ৬৯ ডিগ্রি ও ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, জাপান, সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও উজবেকিস্তান তাতে আপত্তি জানায়। প্রক্রিয়াগত কারণে এ ধরনের আপত্তি অস্বাভাবিকও নয়। দেনদরবার এখনো চলছে। কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যে না থেকে দ্রুত ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে সমঝোতায় আসা হয়।
ব্যয় : ২০১৫ সালের মার্চে একনেকে দুই হাজার ৯৬৭ দশমিক ৯৫ কোটি টাকায় এ প্রকল্প অনুমোদন হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থ এক হাজার ৩১৫ দশমিক ৫১ কোটি টাকা এবং বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয় এক হাজার ৬৫২ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণের মূল কাজ ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার জন্য খরচ ধরা হয় এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
