স্টাফ রিপোর্টার ॥
গতকাল ১৪ অক্টোবর চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল গেট সম্মুখ থেকে মতলব উত্তর থানায় দায়েরকৃত মামলার বাদী কর্তৃক আসামীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর মতলব উত্তর উপজেলায় থানায় সুরুজ মিয়ার দোকানে বাকী খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আলী মিয়া হাওলাদার গংয়ের সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এমনকি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আলী মিয়া হাওলাদারের লোকজন সুরুজ মিয়ার দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটনায়। একইভাবে সুরুজ মিয়ার লোকজনকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করে উভয় পক্ষে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করে।
গতকাল মঙ্গলবার বাদী আলী মিয়া হাওলাদারের দায়েরকৃত মামলার এজাহারের নকল নেওয়ার জন্য ওই মামলার আসামী আনিসুর রহমান (৩৫), পিতা-মৃত আলী হোসেন প্রধান, দিঘিরপাড় নাওড়িবাজার, মতলব উত্তর চাঁদপুর জেলা দায়রা ও জজ আদালতে আসে। এই খবর পেয়ে বাদীপক্ষ আলী মিয়া হাওলাদরের লোকজন যথাক্রমে মো. হাবিব উল্যাহ (৫০), পিতা-কালু হাওলাদার, নাছির (২৫), পিতা-আলী মিয়া হাওলাদার, জমির (২৭), পিতা-মজনু হাওলাদার, মাইনুদ্দিন (৩০), পিতা-মন্টু প্রধানিয়া, রবিউল্যাহ (২৪), পিতা-বজলু হাওলাদার, গিয়াসউদ্দিন, পিতা-হাবিব উল্যা হাওলাদার, আবদুল গণি, পিতা-কালু হাওলাদার সহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮জন জজ কোট মূল গেট সম্মুখ থেকে আনিসুর রহমানকে ফিল্মি স্টাইলে একটি সিএনজিতে তুলে অপহরণ করার চেষ্টা চালায়। এটি পেয়ে আনিসুর রহমান ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয় চেয়ারম্যানঘাট এলাকার লোকজন সিএনজিটি থামিয়ে আনিসুর রহমানকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর ফাঁকে অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনা শুনে চাঁদপুর মডেল থানার এএসআই আমিনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা পান।
এদিকে অপহরণকৃত ব্যক্তি আনিসুর রহমানকে সিএনজিতে উঠিয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হত্যা করার জন্য বিভিন্নভাবে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে আনিসুর রহমান চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনিসুর রহমানের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

