চট্টগ্রামের ছেলে চাঁদপুরে বন্ধুদের সাথে টাকা লেন-দেন নিয়ে ও পিতার সম্পত্তির কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত করতে সৎভাইয়ের পরামর্শে চট্রগ্রাম সাউদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এল.এল.বি শেষ বর্ষের ছাত্র মো. শামীম শেখ (২৫) কে পায়ের ও হাতের ৪টি রগ কেটে, হাতে ব্যাপক ছুরিকাঘাত ও পেটের বিভিন্ন স্থানে ৫টি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দূবৃর্ত্তরা তাকে ডাকাতিয়া নদীতে নিক্ষেপ করেছে। এ কাজের সহযোগিতা করেছে গিয়াস ও নিরব নামে তার চাঁদপুরের দুই বন্ধ। শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ের ১০টার দিকে গাছতলা এলাকায় চাঁদপুর সেতুর উপরে এ ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে জেলেরা উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসলে, পরে পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসাপতালে এনে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শামীমের মা সাগরী বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শামীমের পারিবারিক সূত্রে জানাযায় শামীম চাঁদপুর সদর উপজেলার কুমড়াডুগি কেতুয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসি জাহাঙ্গীর শেখের ১ম স্ত্রীর ছেলে। আহত শামীম চট্টগ্রাম কাপ্তাই এলাকার রাস্তার মাথার কাদের প্রধানিয়া বাড়ীতে তার মায়ের কাছে থেকে চট্রগ্রাম সাউদান বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা করতেন। তার নানার বাড়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায়। সে পড়াশুনার পাশাপাশি কাপ্তাই এলাকায় তার একটি ছোট মৎস্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মাসুদ সামিম ও নতুনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই সূদর্শন কুড়ি হাসপাতালে গিয়ে আহতের খোঁজ খবর নেয় এবং চট্টগ্রামে তার মায়ের সাথে কথা বলার পর, পরবর্তীতে চাঁদপুরে তার সৌদি প্রবাসী পিতার বাড়িতে গিয়ে পিতা জাহাঙ্গীর শেখ ও চাচা জাকির শেখ কে আইনের আওতায় এনে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গত শনিবার রাতেই প্রেরণ করেন।
চাঁদপুর মডেল থানায় পুলিশ জানায়, উল্লেখিত বন্ধুদের সাথে শামীমের ৩০ হাজার টাকা লেন-দেন ও সৎভাই রাসেল শেখ-এর পরোচনায় তাকে চট্টগ্রাম থেকে শনিবার দুপুর ২টায় ট্রেন যোগে চাঁদপুরে এনে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়। বন্ধুরা ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১লক্ষ টাকা দাবী করলে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা শামীকে অটো রিস্কায় উঠিয়ে রাত ১০ টায় চাঁদপর সেতুর উপরে এনে তার পায়ের ও হাতের রগ কেটে দেয় এবং একপর্যায়ে পেটের বিভিন্ন স্থানে ৫টি চুরিকাঘাত করে চাঁদপুর সেতুর উপর থেকে ডাকাতিয়া নদীতে নিক্ষেপ করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় শামীমকে ব্রিজের পিলারের সাথে জেলেরা দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। এ সময় সে অজ্ঞান অবস্থায় থাকে এবং প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে কয়েকজন যুবক নদীপাড়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে, দেখতে পেয়ে জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম রায়হান জানান, তার পায়ের ও হাতের ৪টি রগ কেটে যাওয়ায় ও শরীরের রক্তক্ষরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শামীমের পিতা জাহাঙ্গীর শেখ পুলিশ কে জানিয়েছে, রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে শামীমের শরীরে অস্ত্র প্রচারের পর তাকে আইসিইউ কক্ষে বর্তমানের সে মুমুর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম জানান, টাকা লেন-দেন ও পিতার সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে ব্যাংক কলোনির গিয়াস ও নিরবসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। তার বাবা জাঙ্গীর শেখ ও চাচা জাকির শেখ কে বাড়ি থেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসাপাতালে এনে আহত ছেলে শামীমকেসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামলাকারি যুবকদের খুঁজে গ্রেপ্তার করে আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম রায়হান জানান, আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শামীম অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা চলছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করতে হয়েছে। বেশি রক্তক্ষরন হওয়ায় সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এলাকাবাসিরা জানায়, আহত শামীমের বাবা জাহাঙ্গীর ১৯৯৮ সালে তার ১ম স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে ১ম স্ত্রী সাগরী বেগম ছেলে শামীমকে নিয়ে চট্রগ্রামে এসে গার্মেন্টসে চাকরি করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতো। শামীমেম বাবা তাদের পরিচয় না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরব থেকে ২য় স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের খরচ চালান। কয়েক বছর পূর্বে চাচা জাকির শেখের কাছে থেকে শামিম চাঁদপুর কলেজে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা করা অবস্থায় তার সৎ ভাই তাকে মারধর করার পর সে আবার চট্রগ্রাম গিয়ে সাউদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়ে পড়ালেখা শুরু করে। শনিবার দুপুরে শামিম ট্রেন যোগে চাঁদপুরে আসার পর রাতে তার চাঁদপুরের ২ই বন্ধুসহ নেশাখোর ৪/৫ জন যুবক তাকে নিয়ে ব্রিজের উপর এনে ছুরিকাঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়। তবে এই ঘটনার সাথে তার বাবা ও সৎ ভাই জড়িত আছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

