মিজানুর রহমান রানা,
চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের মাসোহারার নামে চাঁদাবাজি চলছে দীর্ঘদিন থেকে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গত এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর তথ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। যার সিংহভাগ ওপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পেয়ে থাকে। ফলে এ নিয়ে হইচই করার মতো বিষয় ঘটতে দেখা যায় না। কারণ সর্ষের ভেতরে ভূত থাকলে সেই ভূতের আছর নামানো কষ্টসাধ্য এবং সেই ভূত কখনো দেখা যায় না বা ধরা যায় না। এমনই ঘটনা ঘটে চলছে চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের ওপেন চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে। যার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশ প্রতিটি যানবাহন তথা অটো রিকশা, সিএনজি সহ মালবাহী ট্রাকের চালকদের কাছ থেকে ‘মান্থলি’ মাসিক মাসোহারা গ্রহণ করে। এইসব যানবাহনের থাকে না কোনো লাইসেন্স অথবা এসব গাড়ি চুরি করে আনা। এসব যানবাহনের চালকরা বাধ্য হয়েই ট্রাফিক পুলিশকে মাসিক চাঁদা দিয়ে থাকে তাদের স্বার্থের খাতিরে। কিন্তু মাঝে মাঝে ট্রাফিক পুলিশ এসব ডিঙ্গিয়ে অনেক সময় বেপরোয়াভাবে লাইসেন্সকৃত অনেক সিএনজি’র ড্রাইভারদের কাছেও মাসিক চাঁদা আদায় করে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তখনই বাধে গণ্ডগোল।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার কালীবাড়ি এলাকায় বিকেল ৫টায় দেখা গেছে, চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত কনস্টেবল মাহবুব চাঁদপুর-থ-১১০২৭২ নাম্বারের সিএনজি চালক পুরাণবাজার পশ্চিম জাফরাবাদ গ্রামের আবদুল আজিজ গাজীর ছেলে ওমর ফারুকের কাছ থেকে ‘মান্থলি’ আদায়ের জন্য বচসা করছে। কিছুক্ষণ তাদের পেছনে থেকে ট্রাফিক পুলিশ মাহবুবকে বলতে শোনা গেছে, তুই মান্থলি না দিলে এখনই থানায় চল টিআই সাহেবের কাছে। সিএনজি চালক যেতে না চাইলে ওই ট্রাফিক পুলিশ সিএনজিতে উঠে বসে এবং চালককে বলে চল থানায় যেতে হবে। এই অবস্থায় এ প্রতিবেদক ছবি তুলতে গেলে তাৎক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মাহবুব সিএনজি থেকে নেমে যান এবং পাশে থাকা অন্য ট্রাফিক পুলিশ দু’প্রতিবেদককে ডেকে বিষয়টি নিয়ে নিউজ না প্রকাশ করার কথা বলেন।
এ ব্যাপারে সিএনজি চালক ওমর ফারুক জানায়, ট্রাফিক পুলিশ লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক প্রতিটি সিএনজি থেকে ‘মান্থলি’ (মাসিক) মাসোহারা গ্রহণ করে থাকে। আর ঠিকমতো টাকা না দিলে থানায় নিয়ে নানা ঝামেলায় ফেলে উঠকো ঝামেলা বাধিয়ে দেয়। তাই ঝামেলা এড়াতে আমরা মান্থলি চাঁদা দিয়ে থাকি।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের টিআই আবদুর রহমানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ‘মান্থলি’ গ্রহণের ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। আমরা কোনো প্রকার মান্থলি গ্রহণ করি না।’ প্রতিবেদকের কাছে এর প্রমাণ রয়েছেÑ এমন কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আসলে ওই সিএনজির কাগজপত্র ঘাটতি ছিলো, তাই সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্য কোনো বিষয়ে আমার জানা নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ট্রাফিক পুলিশের এই চাঁদাবাজিকে এক সময় ‘নীরব চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করলেও এখন এটি আর নীরবে নেই। এখন এটি এমনই ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে, যা সবার সামনেই ঘটে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নামের কোনো কর্তৃপক্ষের দেখার মতো কেউ আছে কি-না এটাই এখন জনমনে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

