মিজান লিটন :
মঙ্গলগ্রহে যাচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান নাসার সহযোগী গবেষক লুলু ফেরদৌস। চাঁদপুরবাসীর জন্যে এক অধীর আগ্রহের দিন অপেক্ষা করছে। এ যে পরম সৌভাগ্যের এক বার্তা তাদের কাছে।
চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের হাজী মমতাজ উদ্দিন নাজির খানের নাতনী নাসার সহযোগী গবেষক লুলু ফেরদৌস। তার বাবা অহিদুর রহমান খান সরকারের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক। মা রেজিয়া সুলতানা ইনডেপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ইংরেজির অধ্যাপক।
লুলু ফেরদৌস ছোটকাল থেকেই ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। বাবার চাকুরির সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি পড়াশোনা করেছেন। উন্নতমানের মেধা ও প্রতিভার কারণে নাসার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে তিনি সহযোগী গবেষক হিসেবে চাকুরি গ্রহণ করেন।
দীর্ঘদিন চাকুরি শেষে কৃতী একজন মানুষ হিসেবে তিনি মঙ্গলগ্রহে পাড়ি জমাচ্ছেন বিশ্ববাসীর অপার বিস্ময় হয়ে। এটি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে চাঁদপুরবাসী তথা বালিয়া ইউনিয়নবাসীর জন্যে ছিলো এক চমকপ্রদ খবর।
সরেজমিনে লুলু ফেরদৌস-এর বাবার গ্রামের বাড়ি উত্তর বালিয়া গিয়ে এলাকার মানুষের সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়। এ ব্যাপারে ওই বাড়ির মো. জাহিদ হোসেন খানের সাথে কথা বলে জানা যায়, লুলু ফেরদৌসের বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে তেমন একটা আসেন না। তারা ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে নিজেদের বাড়িতে বসবাস করেন। আর চাকুরির সুবাদে লুলু ফেরদৌস থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। লুলুর একমাত্র ছোট ভাই ইমরান সিঙ্গাপুরে পড়াশোনা করছেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আসলে লুলু ফেরদৌস-এর মঙ্গলগ্রহে যাবার বিষয়টি আমাদের কাছে এক গর্বের খবর। আমাদের ইউনিয়নের অধিবাসী লুলু ফেরদৌস একজন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি সেই দিনটির জন্যে। যেদিন তাঁর প্রচেষ্টা সফল হবে, আমরা চাঁদপুর জেলাবাসীসহ বালিয়া ইউনিয়নবাসী জাঁকজমকভাবে দিনটি আনন্দের সাথে পালন করবো।
এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, এতোদিন অনেকেই জানতেন না যে, এই বালিয়া ইউনিয়ন বা উত্তর বালিয়া গ্রামেরই কৃতী সন্তান লুলু ফেরদৌস নাসার একজন সহযোগী গবেষক। বিষয়টি জেনে তারা বেশ গর্ব ও আনন্দ অনুভব করছেন।
