
প্রতিনিধি
মতলব দক্ষিণ উপজেলার খর্গপুর ফাজিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গত ২২ অক্টোবর রাতে এলাকার দু’ বখাটে যুবক দক্ষিণ বারগাঁও গ্রামের সুমন প্রধান (১৮) ও ওসমান গণি (১৯) রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। জনতা কর্তৃক আটক ধর্ষক ওসমান গণিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। একই এলাকার অপর ধর্ষক সুমন প্রধান পলাতক রয়েছে।
ধর্ষিতার মাতা ও মামলার বাদী জানান, আমার মেয়ে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে প্রায় সময়ই এ যুবকরা তাকে উত্ত্যক্ত করত। আমার মেয়ে লোকলজ্জা ও প্রভাবশালী পরিবারের ভয়ে কাউকে এসব কথা জানায়নি। ঘটনার দিন রাতে আমার মেয়ে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে গেলে আগে থেকেই সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা সুমন ও ওসমান গণি পেছন দিক থেকে তার মুখে হাত চাপা দিয়ে মেয়ের গলা হতে ওড়না দিয়ে চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাকে সুমনের দোতলা বিল্ডিংয়ের ছাদে নিয়ে আটক রেখে শারীরিকভাবে মারধর ও পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। মেয়েকে রাতভর এদিক ওদিকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পেয়ে মেয়েকে সুমনের বসতবাড়ি হতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা এক ধর্ষক ওসমান গণিকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
নায়েরগাঁও উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেলিম জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি, আমি নিজেও এখনও ঘটনাস্থলে যাইনি। তবে লোক মুখে বিষয়টি শুনেছি। ধর্ষিতার মা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওয়ার্ড মেম্বার কাওসার জানান, ধর্ষণের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামাল জানান, ধর্ষণের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে এক ধর্ষক ওসমান গণিকে আটক করি। ধর্ষিতাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওসমান গণি ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কবির হোসেন জানান, থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত যুবককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।
