
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন সারপাড় মৌজায় অংশে সরকারি খালের জায়গা কতিপয় ভুমিখেকো ব্যাক্তি ক্ষমতার অপব্যবহা করে দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারী খাল ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাষন বন্ধ হওয়ায় শত-শত ফসোলী জমি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল শনিবার দিন দুপুর সরেজমিনে দেখা ও জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোয়লজুরি খাল এর সংযুক্ত বাড়ৈ গাঁও খাল নামে পরিচিত।কালিবাড়ি জিরো পয়েন্ট খালটি নারায়নপুর এবং খাদের গাঁও ২টি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত। খালের দু-পাশে অবস্থিত কয়েকটি গ্রামের শত-শত ফসল এর আবাদি জমি ও বিলের বন্যাকবিলত পানি চলাচলে কালোজয়ী ঐতিহ্য দরে রেখেছে উল্লেখযোগ্য খালটি। এতে কয়েকটি মৌজা এবং গ্রামের শত শত একর আবাদি জমির ফসলের রক্ষাকবজের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এই খালটি। কৃষি প্রধান আমাদের এদেশ,সরকার কৃষির উপর সর্ব উচ্চ ভর্ত্তুকী বহন করে এদেশের কৃষককে বাচিয়ে রেখেছে।কৃষক ‘বাচলে আমরা বাচবো’ এশ্লোগানকে সামনে রেখে জড় বৃষ্টি তুপানে আপামোর কৃষককুল মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান,গম,ভুট্রার ও রবিশস্য ফসল উৎপাদন করে এবং বোরো ইরি মৌসমে সেচ নিস্কাসনে এই খালে পানি ব্যবহার করে কয়েক হাজার মণ ধান গোলাজাত করে কৃষক। মাছুয়া খাল টু নারায়নপুর বোয়ালজুরি খালের দক্ষিন দিকে বাড়ৈগাঁও, নারায়নপুর, সাড়পার, ঘিলাতলী, গোবিন্দপুর, ডারিন্দারসুলপুর এবং বাগিচাপুর মৌজাসহ ২টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ফসলী জমির জোয়ার ভাটার পানি চলাচলের একমাএ জল পথ এই খালটি। খালটি দখল ও বিলুপ্তির বিষয় জেলা তথা উপজেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভ্যান করে বসে আছে। এদিকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মৌজার আদর্শবান কৃষককের সাথে আলাপ করলে তারা ভুমিদস্যুদের ভয়ে মুখ খোলতে অপারকতা প্রকাশে চাপাক্ষোভের কথা জানান সংবাদকর্মীকে। অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন,এমনিতেই খালটি খানা খন্দকে ভরপুর তার উপর ‘মরার উপর খরার গা’। এখন খালটি ভরাটদখলের হিড়িক,’এদেশটা যেন মগের মুল্লুকে পরিনত হয়ে পড়েছে,তাতে বুঝা যায়,‘জোর যার মল্লুক তার’। নারায়নপুর বাজার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জানান, বাজারকেন্দ্রীক জমির মুল্য অধিক হওয়ায় একশ্রেনীর ভুমিব্যবসায়ী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারী খাল ভরাট করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রাঙিন স্বপ্ন দেখছে।এদিকে খালের পাড়বাসী ও গ্রামবাসীর কৃষকদের অভ্যন্তরিন প্রাণের দাবী সরকারী সম্পদ সরকারের হেফাজতে রাখার জোর দাবী জানান যথাযথ প্রশাসন ও ভুমি কর্মকর্তাদের প্রতি। তা না হয়,খালটির পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মাঠের ফসলী জমির বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হুমকীর সম্মুখীন বলে ধারনা করছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।এছাড়া এলাকাবাসী বিলুপ্ত হওয়ার মত খালটি অতীব জরুরী ভিত্তিতে পুনঃখনন ও সংস্কারের জোর দাবী জানান যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট।
