আট বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মায়ের সাথে নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাতার কান্দি গ্রামে ফিরে গেল কুলসুমা। গতকাল বৃহস্পতিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে বিকেলে চাঁদপুর জেলা কারাগারের নিরাপদ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয় কুলসুমা।
কুলসুমা ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট হাইমচর থানা পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়ে আদালতের মাধ্যমে নিরাপদ হেফাজতী হিসেবে চাঁদপুর জেলা কারাগারে তার ঠিকানা হয়। কুলসুমা তখন মানসিক রোগী থাকায় তাকে চাঁদপুর ও পাবনা জেলা কারাগারের সহায়তায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ সেফ হোমে কয়েক দফায় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পর মোটামুটি সুস্থ হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা কারাগারে ফিরে আসে। ফিরে আসার পর তার কাছে তার পরিচয় ও ঠিকানা জানতে চাইলে সে জানায়, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার তাতারকান্দি গ্রামে এবং তার বাবার নাম জিনু খাঁ (টুন্ডা)। পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের আন্তরিক চেষ্টায় কিশোরগঞ্জের জেলা কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পৌরসভার মেয়র এবং জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় তার ঠিকানা পাওয়া গেলে কিশোরগঞ্জ থেকে তার মা ছুটে আসেন চাঁদপুরে। গত বুধবার মা সাজেদা বেগম চাঁদপুর জেলা কারাগারে পৌঁছলে মা ও মেয়ে উভয়েই আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন। মেয়েকে ফিরে অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে খুশিতে মেয়েকে জড়িয়ে মা কাঁদতে থাকেন।
কুলসুমা প্রায় আট বছর আগে পাগল অবস্থায় বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়। পরে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। ৫ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে কুলসুমা ৩য়। ২০০৫ সালে কুলছুমাকে ১৮ বছর বয়সে পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিয়ে দিয়েছিল তার পরিবার। বিয়ের প্রায় ৩ মাস পর পাগল হয়ে যায় কুলসুমা। এরপর প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন গভীর রাতে তাকে বেঁধে রাখা শিকল খুলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় কুলসুমা। দীর্ঘ কয়েক বছর অতিবাহিত হলে তারা মনে করেছিলো যে কুলসুমা হয়তো আর বেঁচে নেই। অনেকটা আশাই ছিলো না তাকে খুঁজে পাওয়ার। আট বছর পর মেয়েকে পাওয়ার খবর পেয়ে আনন্দে উল্লসিত কুলসুমার মা।

