
প্রতিনিধি
মায়ের সামনে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেলো চার বছরের শিশু মহসিনা হামিদ শাওলীন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে হাজীগঞ্জের বলাখাল এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে । এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় ১ ঘণ্টা পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উক্ত স্থানে গতিরোধক দেয়ার আশ্বাসে জনতা অবরোধ তুলে নেয়। পরে নিহতের পারিবারিক সম্মতিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত শাওলীনের বাবার বাড়ি হাজীগঞ্জের ৭নং বড়কুল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ি। সে ঐ বাড়ির আবু হানিফ নওশাদের বড় মেয়ে ।
নিহত শাওলীনের ফুফু ফাহিমা আক্তার জানান, আজ (গতকাল) সকালে আমি, আমার বাবা, ভাতিজি শাওলীন ও শাওলীনের মা মাহমুদা আক্তার সাথী নিজের বাড়ি থেকে বলাখাল এলাকার বকাউল বাড়িতে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসি। বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে শাওলীনসহ আমরা সবাই বকাউল বাড়ির সড়কের পাশে এসে দাঁড়াই। এ সময় হঠাৎ করে শাওলীন সড়ক পার হতে গেলে বোগদাদ পরিবহনের বাসটি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এর পরে কি হয়েছে কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। এ ঘটনার পর থেকেই শাওলীনের মা অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। সিমরান নামের ৩ বছরের আরেকটি বোন রয়েছে নিহত শাওলীনের।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চাঁদপুর সদর উপজেলা মনিহার এলাকার আঃ কাদের জানান, আমি ঘটনার সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখলাম একটা বাচ্চা বাসের সামনে দিয়ে সড়ক পার হতে গিয়েই বাস চাপা পড়ে। বাসটি পালিয়ে গেলেও শিশুটি তাৎক্ষণিক মারা যায়।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শদক মাহমুদ বলেন, ঘটনার পরেই আমি সেখানে ছুটে যাই। অনেক চেষ্টা করে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। আর বাসটি আমাদের জিম্মায় রাখা আছে। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে থানায় বসা হবে। বসা না হলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে আমরা মামলা নেবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গতিরোধক দেয়ার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়। অপর প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, নিহতের পরিবারের সম্মতিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
