জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ সস্নোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষণগণনার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল ১০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত পুরাতন বিমান বন্দরে (জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড) মুজিববর্ষ উদ্যাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে সরকার। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন শুরু হলেও ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হলো তার ক্ষণগণনা।
পাকিস্তানের কারাগারে থাকার পর, মুক্তি পেয়ে লন্ডন এবং দিল্লী হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসার ঐতিহাসিক এ দিনটিতে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকীর ক্ষণগনণার দিন হিসেবে ঠিক করা হয়।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে বহনকারী বিমানটি এখানেই অবতরণ করেছিলো। গতকাল বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী বিমান (সি-১৩০জে) অবতরণ করে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে।
৪টা ৪৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি ট্যাঙ্ িকরে টারমাক এলাকায় পেঁৗছানোর পর দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ২১ বার তোপধ্বনি দেয়া হয়। ৪টা ৫০মিনিটে প্লেনের দরজা খোলা হলে ১৫০ শিক্ষার্থী ও তার নেতা-কর্মীরা তাকে স্বাগত জানায়।
এ সময় কণ্ঠ শিল্পী সন্ধ্যা মুখার্জীর রেকডকৃত ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তুমি তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়’ গানটি বেজে উঠে। এই এক আবেগঘন মুহূর্তে দেশের কোটি কোটি মানুষ টিভির পর্দায় অবলোকন করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুপক আলোকবর্তিকা। বঙ্গবন্ধুর রূপক আলোকবর্তিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত সকলেই দাঁড়িয়ে জাতির পিতার রূপক আলোকবর্তিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
সম্মান প্রদর্শন শেষে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তাঁর জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন হতাম না, স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যদা পেতাম না। ১৯৭০ সালে দেশে যে নির্বাচন হয়েছিল সে নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তান সেই রায় মেনে নিতে পারেনি। শুরু হলো যুদ্ধের প্রস্তুতি। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ৯ মাস জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগারে দুর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিলো দেশ একদিন স্বাধীন হবেই। কিন্ত দুঃখের বিষয় পাকিস্তানী বাহিনী যাকে হত্যা করতে সাহস করেনি, অথচ তারই প্রিয়ভূমিতে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই আমরা এগিয়ে যাবো। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর (মুজিববর্ষ) ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দুপাশে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ও জাতির জনকের কন্যা শেখ রেহানা, জাতির জনকের দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এর আগে বিকেল ২টা ৪৮ মিনিটে চাঁদপুর স্টেডিয়াম হতে উৎসবঘন পরিবেশে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর (মুজিববর্ষ) ক্ষণগণনার উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি স্টেডিয়াম হতে বের হয়ে চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। র্যালিতে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
