প্রতিনিধি
চাঁদপুর চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী একমাত্র স্পেশাল যাত্রীবাহী ট্রেন আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেসে ট্রেনে প্রতিদিনি হিজড়া ও ফেরিওয়ালাদের দাফটে শত শত যাত্রী বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। ফকির ও এক শ্রেণীর যাত্রী বেশী বখাটে যুবকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েও যাতায়াত করছে যাত্রীরা। এছাড়াও ট্রেনের টয়লেটসহ নোংড়া পরিবেশতো রয়েছে। ট্রেনের এ ধরনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আন্ত:নগর ট্রেনটির যেন পরিচালনার দায়িত্বে কেহই নেই।
সরেজমিনে গত ০৩ নভেম্বর চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা ও যাওয়ার সময় যে চিত্র প্রত্যক্ষ করে দেখা যায়, মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁদপুর ষ্টেশন থেকে সকাল ৫ টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় যাত্রী হয়রানি। ট্রেনটিতে টয়লেটে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের খাওয়ার প্রয়োজনে খাবার গাড়ি নেই। যার ফলে যাত্রীরা প্রয়োজন হলেই খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে না। চাঁদপুর থেকে ট্রেনটি ছাড়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর শুরু হয় বিভিন্ন ফেরি ওয়ালাদের উপদ্রব। যাত্রীদের এবাদত করার নামাজের স্থান নেই। যাত্রীরা ট্রেনটিতে বসে ঘুমানো বা বিশ্রাম করা সম্ভব হয়ে উঠে না। ফেরি ওয়ালাদের উচ্চ স্বরে চেচা-মেচিতে যাত্রীরা মারাত্মকভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। ট্রেনের বগি গুলোতে অসংখ্যা ফকিরের উপদ্রব। ফকিররা বিভিন্ন সুরে উচ্চ আওয়াজে সাহায্যের জন্য যাত্রীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। এছাড়া ৫/৬ জনের হিজড়ার দল ট্রেনে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে জোর পূর্বক ৫০ টাকা বা ১০০ টাকা দাবী করে এবং যাত্রীদের উপর চড়াও হয়ে হয়রানি করে।
তাদের দাপটে যাত্রীরা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে। কোন যাত্রী টাকা না দিলে তাদের হাতে নাজায়েল হতে হয়। হিজড়ারা যাত্রীদের গালে ও গায়ে ধরে যাত্রীদের সম্মান হানী করে থাকে রীতিমত। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদেরকে অর্থ দিয়ে বিধায় করতে হয়। অপরদিকে প্রথম শ্রেণীর ও শোভন চেয়ার শ্রেণীর বগিতে যাত্রীদের বসার সিটগুলো অপরিস্কার। যাত্রীরা নোংরা ও অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন সিটে বসে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়।
ট্রেনের বগিগুলোতে দায়িত্বে থাকা লোকজন বিনা টিকেটে যাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। টিকেট ক্রয় যাত্রীরা তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার সেবা পায় না। বখাটে যুবকরা প্রথম শ্রেণীর বগিতে বসে যাত্রীদের বসতে না দিয়ে তাদের হয়রানি করে থাকে। এ রুটের টিটিই/এটেন্ডাসরা চায় যাত্রীরা টিকিট না করুক। ট্রেনটি চাঁদপুর থেকে ছেড়ে লাকসাম যাওয়া ও চট্টগ্রাম পৌছা পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে ফেলে রাখার ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পৌহায় এবং সঠিক টাইমে না পৌছার ফলে ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবি মানুষেরা মারাত্মক সমস্যায় পড়ে। ট্রেনটি পুনরায় চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৫টায় ছেড়ে চাঁদপুর পৌছলে বিভিন্ন স্থানে ফেলা রাখার কারণে রাত ১২ টায় চাঁদপুর পৌছে। এতে দক্ষিণ অঞ্চলিয় শত শত যাত্রী লঞ্চ না পেয়ে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে দুর্ভোগে পড়ে পরদিন বরিশাল, খুলনা, লালমোহন, পাতারহাট, ফিরোজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পরের দিন যেতে হয়। ট্রেনটিতে পুলিশ আনসার বাহিনী না থাকায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। খাওয়ার বগি না থাকায় যাত্রীরা ফেরী ওয়ালা থেকে খাদ্য ক্রয় করে নেশা জাতীয় খাদ্য খেয়ে সর্বস্ব হারায়। নেশা দ্রব্য বিক্রি করা চক্ররা যাত্রীদের সব লুটে পুটে নিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ ট্রেনের যাত্রীদের মালামালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীরা মেঘনা এক্সপ্রেস টেনের এ বেহলার অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরিভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন বলে দাবী করেছেন।
