মনিরুজ্জামান বাবলু
হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আবদুল মান্নান খাঁন বাচ্চু’র বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেন। অভিযোগে তিনদফা হুমকী-ধমকীসহ মেয়রের লুটপাটের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন এই কাউন্সিলর।
অভিযোগটি রবিবার হাজীগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে। যার নং ৬৫০। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.এরশাদ উল্লাহ।
অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, মেয়র আবদুল মান্নান খাঁন সহ ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান বিবাদীর তালিকায় রয়েছেন। স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে ১নং প্যানেল মেয়র আবুল কাশেম, ৭ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ঠিকাদার বসির উদ্দিন মজুমদার।
মেয়রের সাথে কাউন্সিলরের তিনধপা হুমকী-ধমকী ঃ
গত ৮ জুন বিকেলে পৌর মেয়রের কক্ষে বিভিন্ন কাজের ব্যাপারে কাউন্সিলর আকবর হোসেন মেয়রের সাথে কথা বলেন। ওই সময় কাউন্সিলর ছিদ্দিকুর রহমান উত্তেজিত হয়ে কাউন্সিলরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধর করতে চেষ্টা করে। কাউন্সিলর ছিদ্দিক এক পর্যায়ে কাউন্সিলর আকবরের চোখ তুলে নেয়ার হুমকী দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এগিয়ে আসেন।
দ্বিতীয় ঘটনা গত ৯ জুন সকালে পৌর ভবনে কাউন্সিলর আকবর যাওয়ার পর মোবাইলের মাধ্যমে সর্তকতার খবর পান। কাউন্সিলর ছিদ্দিকুর রহমান বিভিন্ন ভাবে ওইদিন জনমুখে কাউন্সিলর আকবরকে মারধর করতে খুঁজছে বলে অবহিত হয়। তারপর থেকে বিষয়টি মেয়রকে অবহিত করতে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। ওইদিন বিকেল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি কাউন্সিলর আকবরের মুঠোফোনে জানান,‘আপনাকে মেয়র শায়েস্তা করার জন্য লোক পাঠিয়েছে, আপনি সাবধানে থাকবেন।’
তৃতীয় ঘটনা ৯ জুন রাত ৮ থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে দুই ছেলে মোটর সাইকেল
নিয়ে কাউন্সিলর আকবরের বাড়ির সম্মুখে আটবার চক্কর দেয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপার আমির জাফরকে অবহিত করেন।
অভিযোগে কাউন্সিলর আকবর হোসেন দাবী করেছেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়র মান্নান খাঁন বাচ্চু’র ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। একজন সামরিক জান্তার মতো আচরণ কওে মেয়র। পৌর কর্মচারীরা দূরের কথা নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ ভয়ে তার সাথে কথা বলে না। সবাইকে জিম্মি বানিয়ে রেখেছে।
লুটপাটের ফিরিস্তি প্রসঙ্গে তিনি মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, স্বাধীনতার স্তম্ভ তৈরীর নামে উত্তোলনকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা পৌরসভার কোন একাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে রেখে দিয়েছেন। পৌরসভার সমস্ত মালামাল তার নিজ দায়িত্বে ক্রয় করেন। (যেমন-গাড়ি,বৈদ্যুতিক খুঁটি, নিমার্ণ সামগ্রী)।
কাউন্সিলর আকবর হোসেন অভিযোগ লিপিতে তুলে ধরেছেন মেয়রের একগুড়েমীতে সরকারের ৯০ লক্ষ টাকা ক্ষতিসাধণের বিষয়টি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল ইউজিআইপি প্রকল্প চার নম্বর টেন্ডার নিয়ে রেট থেকে শতকরা ১৫ ভাগ অর্থ হাতে রেখেই কাজ প্রদান করেছে। যা বর্তমান বাজার রেটনুযায়ী বড় ধরণের দুর্ণীতি। কারণ বর্তমান নির্মাণ সামগ্রী গত বছর থেকে শতকরা ২৫-৩০ কম। ( যেমন গত বছর রড প্রতি টন ছিল ৬৮ হাজার টাকা, আর চলতি বছর ৪২ হাজার টাকা। ইট গত বছর ছিল ৮ হাজার পাঁচশ টাকা, চলতি বছর ৬ হাজার টাকা সিডিউল রেটে কাজ করলে যে কোনো কনন্ট্রেকটরের শতকরা ১০-১৫ টাকা লাভ করতে পারছে। চলতি বছরের প্রথম টেন্ডারেই মেয়র শতকরা ১৫ ভাগ অ্যাবোভ দিয়ে পৌরসভার ৯০ লক্ষ টাকা ক্ষতি করেছেন মেয়র।
পরিশেষে আকবর হোসেন অভিযোগে বলেছেন, মেয়র প্রথমে তাকে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে লোভ দেখিয়ে ছিলো। পরে তিনি তথ্য ফাঁস করেদিছেন এমন অযুহাতে মেয়র আবদুল মান্নান খাঁন বাচ্চু হুমকী দিয়ে আসছে।
মেয়রের লুটপাটের ঘটনা ও জীবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.এরশাদ উল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও.সি) বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে মামলা হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার আমীর জাফর মুঠোফোনে মানবসমাজকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি অবগত রয়েছি। সহকারী পুলিশ সুপার আবু হানিফ ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহআলমকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কাউন্সিলর আকবর হোসেন মানবসমাজ প্রতিবেদককে বলেন, মেয়র সাহেব গত দুই বছর ধরে আমার মুঠোফোন রিসিভ করেনি। তিনি আমাকে দেখিয়ে নেয়ার হুমকী-ধমকী দিয়ে আসছে। লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগে যা এনেছি তা সম্পূর্ণ সত্য। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো অনিয়ম রয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে লুটপাট প্রসঙ্গে পৌর মেয়র আবদুল মান্নান খাঁন বাচ্চু মুঠোফোনে জানতে চাইলে, তার এপিএস হাতেম পরিচয় দিয়ে বলেন, স্যাওে, বারান্দায় হাঁটতাছে, এখন কথা বলতে পারবে না। আপনি পরে ফোন দিয়েন।’ অথচ এরপর একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ করেননি মেয়র আবদুল মান্নান খান বাচ্চু।
শিরোনাম:
বুধবার , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
