প্রতিনিধি
ঢাকা-চাঁদপুরের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ময়ুর-৭ এ চলন্ত অবস্থায় এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লঞ্চে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টায় এমভি ময়ুর-৭ লঞ্চটি ঢাকা নৌ টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে মোঃ ওমর ফারুক (৩৪) নামে এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ৩টা ৫ মিনিটে সে মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় যাত্রীরা তার মৃতদেহ দেখার জন্য লঞ্চের নিচ তলায় ভিড় জমায়। অনেকে এ মৃত্যুর সংবাদে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তার পকেটে থাকা আইডি কার্ড থেকে জানা যায়, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পূর্ব কেরোয়া গ্রামের পান পাড়ায়। তার আইডি কার্ড নং- ৫১১৫৮৫৯৫৪৪২৭৮। পিতার নাম সৈয়দ আহম্মদ ও মাতার নাম মাফিয়া বেগম। সাথে ২টি মোবাইল সেট একটি জামা-কাপড়ের ব্যাগ, নগদ ৮০ টাকা ও ১টি লাক্স সাবান ছিল। সে ঢাকা পিজি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে দেখিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন। তার মোবাইলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে ঢাকার একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরীতে চাকুরি করে। তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন থেকে নাম্বার নিয়ে যাত্রীরা তার পরিবারের লোকজনকে তার মৃত্যুর খবর জানায়। তাৎক্ষণিক লঞ্চের যাত্রীরা নিজেদের তহবিল থেকে তার দাফনের জন্য প্রায় ১১ হাজার টাকা উত্তোলন করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। লঞ্চের মালিক আলহাজ্ব এএফএম আবু তাহের মৃত ব্যক্তিকে তার বাড়ি পাঠানোর সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। লঞ্চ মালিক সমিতি ও ময়ুর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ফারুকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। লঞ্চটি বিকেল ৫টায় চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে এসে পৌঁছলে তার শ্বশুর লাশ গ্রহণ করেন। সে গত কয়েক মাস পূর্বে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এ সংবাদ শুনে তার নবাগত স্ত্রী শোকে কাতর হয়ে মূর্ছা যান।
