স্টাফ রিপোর্টারচাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার বিদ্যুৎ অফিসের উল্টো দিকে রাতের অাঁধারে এক হিন্দু পরিবারের বাউন্ডারী দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছেন দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ১ জনকে আটক করেন।চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার মৃত জগবন্ধু সাহার পুত্র হরিপদ সাহা, স্বপন কুমার সাহা, মুক্তিযোদ্ধা রুহিপদ সাহাসহ তার ভাইয়েরা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর সামনে দোকানঘর ও পেছনে বাসাবাড়ি করে বাস করে আসছিল। এরই মধ্যে তারই প্রতিবেশি শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডের মৃত ওছমান আলী পাটওয়ারীর পুত্র হীরা জুয়েলার্সের মালিক স্বর্ণকার আবুল হোসেন পাটওয়ারী তার ভায়রা ভাই মৃত বেলায়েত হোসেন মজুমদারের পরিবারের কাছ থেকে কিছু জায়গা ক্রয় করেন। ক্রয় করার পর থেকে তিনি দাবি করে আসছেন পাশে থাকা স্বপন কুমার পরিবারের নিকট তার জায়গা রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কয়েকবার মীমাংসার লক্ষ্যে আলাপ আলোচনা করেও আবুল হোসেন স্বর্ণকারের দাবির সত্যতা খুঁজে পায় নি। সে বহুবার পেশীশক্তি প্রদর্শন করেও তার দাবিকৃত সম্পত্তি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে সে জেলা জজকোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৫৫/১২। মামলা চলাকালে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন পূর্বক সে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে গত ২৫ জুন শনিবার দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৪ টায় তার ছেলে কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী, রাসেল পাটওয়ারী, তার ভাইয়ের ছেলেসহ প্রায় শতাধিক দুর্বৃত্ত নিয়ে হরিপদ সাহার সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। সংখ্যালঘু পরিবারটি ঘটনা টের পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি তাদের বসতঘরের দরজা লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তাদের মারমুখী আচরণে অসহায় নিরীহ পরিবারটি ভয়ে অাঁতকে উঠে। ঘরে থাকা মহিলারা ভয়ে কাঁদতে থাকে। ভোরের আলো ফুটে উঠার পর হিন্দু পরিবারটি রাস্তায় বেরিয়ে আসে এবং স্থানীয় পর্যায়ে পৌর মেয়রসহ চাঁদপুরের নেতৃ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে ঘটনা জানালে তারা পরিবারটিকে সান্ত্বনা প্রদান পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। ঘটনার সংবাদ শুনে অনেকেই ছুটে আসেন পরিস্থিতি দেখার জন্যে। এসময় অনেককেই বলতে শোনা যায় স্বর্ণকার আবুল হোসেন পাটওয়ারী যদি সম্পত্তি পেয়েই থাকেন তাহলে রাতের অাঁধারে দলবল নিয়ে অপরের বাউন্ডারি ভাঙ্গার কারণ কি। আর যেখানে আবুল হোসেন নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেন সেখানে তিনি কি করে বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙ্গার সাহস পান। তার মূল শক্তি কোথায়? ঘটনার পর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা পরিষদ নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ পূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় দুপুর ২টার দিকে আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ কামরুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আবুল হোসেন গং দ্বারা হরিপদ সাহা ও স্বপন সাহা হামলার শিকার হন। সে সময় তাদেরকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
