রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ভয়াবহ রূপে ব্যবহার শুরু করেছে সিএনজি স্কুটার চালকরা। এরা পারিবারিক রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস (এলএনজি) সিলিন্ডার যাত্রী পরিবহনের থ্রি হুইলার সিএনজিচালিত স্কুটারে ব্যবহার শুরু করেছে। সম্প্রতি বেশ কিছু সিএনজি স্কুটারে এই এলএনজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছে, যা প্রত্যক্ষভাবে দেখা যাচ্ছে। ঈদের পর পর ২৪ ঘণ্টা সারাদেশে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে এ সময়ে সিএনজিস্কুটার চালক বা মালিকরা এই পন্থা অবলম্বন শুরু করেছে।
গতকাল শুক্রবার হাজীগঞ্জের বলাখাল হান্নান সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ মান্নান সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নিতে আসা সিএনজিচালিত স্কুটারগুলো সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা স্কুটারগুলোর প্রায় অর্ধেকগুলোর মধ্যে ১২ ও ১৩ কেজি ওজনের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার। স্কুটারে যাত্রীরা যেখানে বসেন তার পেছনে যে স্থানে মালামাল রাখা হয় ঠিক সেই স্থানে এই গ্যাস সিলিন্ডারটি কাত করে বা বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
রান্না করার কাজে বাজার থেকে সিলিন্ডার (এলএনজি) ক্রয়ের সাথে যে ক্যাপ ও পাইপ দেয়া হয় তার পুরোটাই সিএনজিচালিত স্কুটারের কাজে এখন লাগানো হচ্ছে। দেখা গেছে যে, এলএনজি গ্যাসের সিলিন্ডারটির মুখের ক্যাপটি লাগিয়ে পর্দার ফাঁক দিয়ে পেছনের ইঞ্জিনে থাকা গ্যাসের নলের মধ্যে সংযোগ করে দেয়া হয় আর স্কুটারে থাকা সিএনজির সিলিন্ডারটি গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ ক’জন চালক চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, ঈদের পর দিন তিতাস গ্যাস লাইনে জরুরি কাজ করায় তখন ১ দিনের জন্য সারাদেশের সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে আমাদের কপালে যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তাছাড়া একবার গ্যাসের জন্যে পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়ালে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। তাই অন্যদের দেখাদেখি আমরা বাজার থেকে কিনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারটি লাগিয়েছি।
হাজীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ বাজার থেকে সিএনজি স্কুটারযোগে বাড়ি আসার জন্যে যে স্কুটারে উঠি সেই স্কুটারে দেখলাম রান্না করার কাজে ব্যবহৃত একটি সিলিন্ডার থেকে সংযোগ লাগিয়ে স্কুটারটি চালানো হচ্ছে। বিষয়টি দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে যাই।
খোঁজ নিয়ে ও উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, প্রাকৃতিক গ্যাসকে দু’ভাগে রূপান্তর করা হয়। একটি রূপান্তর হচ্ছে এলএনজি আরেকটি রূপান্তর হচ্ছে সিএনজি। তবে দুটো গ্যাসই প্রাকৃতিক গ্যাসের তরল রূপ। শীতলকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রাকে কমিয়ে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই এলএনজি বলা হয়।
এলএনজি কিন্তু এলপিজি বা সিএনজি এক নয়। এলপিজি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস যা পাওয়া যায় রিফাইনারী থেকে। অন্যদিকে সিএনজি হচ্ছে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সঙ্কুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাসকে কেবল প্রচ- চাপে সঙ্কুচিত (কমপ্রেস) করা হয় যাতে অনেক বেশি গ্যাস ছোট একটা সিলিন্ডারে জমা করে রাখা যায় এটাই সিএনজি। এলএনজি বা এলপিজিকে কমপ্রেস করা যায় না। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস দুই ভাগেই রূপান্তর করা হয়, একটি আরেকটির পরিপূরক নয়।
সিএনজি’র স্থলে এলপিজি ব্যবহারে অদক্ষতা ও গ্যাস ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, এভাবে যাত্রীবাহী পরিবহনে রান্না করার সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহারের বিষয়ে আমাকে আরো একজন জানিয়েছে। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমি ব্যবস্থা নেবো।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
