মাছের ঘেরের মাছ চুরি করার সময় প্রত্যক্ষদর্শীকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। এতে এক বিধবা ও এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত পরশু শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আঃ রশিদ ওরফে সোনা মিয়ার পুত্র মোখলেছ (৩০) ঘটনার সময় অন্যের লীজকৃত মাছের ঘেরে গোপনে বর্শি দ্বারা মাছ শিকারের সময় একই গ্রামের মৃত আঃ খালেকের স্ত্রী শাহানারা বেগম দেখতে পায়। ওই সময় তিনি এ কাজটি করতে বাধা দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শাহানারাকে মারধর করেন মোখলেছ। তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন পার্শ্ববর্তী মৃত নাছির উদ্দিনের পুত্র কালা মিয়া (৬০)। তাকেও তারা বেদম প্রহর করলে আতœীয়-স্বজন ঘটনারস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে শাহানারা বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে অতি দূর্বীসহ জীবন-যাপন করে আসছি। ঘটনার দিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে দেখি মাছের ঘেরে চুরি করে মাছ তুলছে মোখলেছ। আমি তাকে মাছ চুরি করায় বাধা দিলে সে আমাকে গাল-মন্দসহ মারতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মোখলেছের ডাকে তারই ছোট ভাই মামুন (২৭), আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রাসেল (২২) ও সানু মিয়ার পুত্র রঞ্জু মিয়া (২৫) আমাকে ও উদ্ধারকারী কালা মিয়াকে মারতে শুরু করে। ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আমাদের উদ্ধার করেন। তিনি আরো বলেন, এ ব্যপারে কারো কাছে মুখ খুললে তোকে গ্রাম ছাড়া করব, তোর সন্তানদের রাস্তায় পেলে তোর মতই প্রহার করে হাসপাতালে পাঠাবো। ঠিক যেন “চোরের মায়ের বড় গলা- বললে কথা ভাঙ্গবো তলা”।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোখলেছের সন্ধান করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসি বলেন, ঘটনাকারী মোখলেছ অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে তার পেশী শক্তি প্রদর্শনসহ এলাকায় হাঙ্গামা সৃষ্টি করে। অসহায় মানুষের উপর নির্বিকারে নিপীড়ন ও নির্যাতন চালায়। এতো সবের পরও বিধবা ভিখারীনির উপর এমন হামলা যা বর্বরচিত হামলার সমচিন। তার বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
প্রসঙ্গত, মোখলেছ যে মাছের ঘেরে মাছ চুরি করছিল- তা লীজের মাধ্যমে গ্রহন করেন একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র ঈমাম হোসেন, মৃত সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র শাহাদাত হোসেন ও ঘটনায় আহত কালা মিয়ার পুত্র মনির হোসেন।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

