শিরোনাম:
শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হাসানুজ্জামানঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিন ইউনিয়নের নাহারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম নাইট গার্ড নিয়োগে সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, এই সৃষ্ট পদে নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া আজ থেকে প্রায় ৩ বছর আগে শুরু হয়। বিবিধ কারনে উক্ত নিয়োগ বন্ধ থাকে। ওই সময় নাহারা গ্রামের বড় বাড়ির হাছান আহম্মদের পুত্র নুরে আলমের কাছ থেকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। যা প্রায় আড়াই বছর অতিক্রম করে। আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলে আশপাশের ৫ জন নতুন করে আবেদন করে। এদের মধ্যে নুরুল আলম বিদেশ চলে যাওয়ায় বাকি ৪ জন উক্ত পদের জন্য লড়াই করছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন স্কুল সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান। আবেদনকারীরা হলোঃ হাছান আলীর পুত্র নুরে আলম সুজন, সেরাজল হকের পুত্র শুকুর আলম, আবদুল হাই সুমন ও বাপন দাস। এ ঘটনায় উক্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুল সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান এক নং প্রার্থী মোঃ নুরে আলমের কাছ থেকে আড়াই বছর আগে নেয়া ৫০ হাজার টাকা গত ২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় ফেরত দিয়েছেন এবং ২ নং প্রার্থীর কাছ থেকে নগদে আড়াই লক্ষ ও বাকিতে আরও দেড় লক্ষসহ মোট ৪ লক্ষ টাকার চুক্তি করেছেন। যা চুড়ান্ত অনিয়মের সামিল। এব্যাপারে অভিযোগের বাদি মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমি ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হওয়া সত্বেও এবিষয় গুলো জানতে পারিনি। পরস্পর জানতে পারি গত ২৬ জুলাই স্কুল সভাপতির সাথে গোপন বৈঠক করে নগদ টাকার বিনিময়ে চাকুরী নিশ্চিত করে শুকুর আলম। এব্যাপারে সভাপতিকে আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে পরে বলবেন বলে জানান। ১ নং প্রার্থী মোঃ নুরে আলম সুজন বলেন, আমি ডিগ্রি পাশ করেছি। মা বিহীন সংসারে বাবা পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন-যাপন করছেন। ঘরে বিবাহ যোগ্য ছোট বোন আর্থিক অভাবের কারনে বিয়ে দিতে পারছিনা। যে কারনে আমার চাকুরীটা অতি প্রয়োজন ছিলো। যদি নিজের যোগ্যতায় চাকুরী নাই পাই তবে মনে কোন দুঃখ থাকবেনা। আর যদি কেউ বক্র পথে অযোগ্য ব্যক্তিকে ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেয় তাহলে বুঝবো যোগ্যতা বিচারের কেউ নেই। তবে এটুকুই বলবো অভাবের সংসারে এ চাকুরীটা আমার খুব প্রয়োজন। সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি আধো সত্য নয়। তবে আমি সুজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছি আবার সে টাকা ফেরতও দিয়েছি। এবিষয়ে ২ নং প্রার্থী শুকুর আলম বলেন, আমি কম শিক্ষিত হতে পারি তবে এ চাকুরীর জন্য যোগ্য একজন প্রতিদ্বন্ধী।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি লোকমূখে শুনেছি। তবে সভাপতি এবিষয়ে আমাকে কিছু বলেন নি। এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বলেন, সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান একজন অভাবি মানুষ। ওনাকে সভাপতি বানানো উচিৎ হয়নি। বছরে উক্ত বিদ্যালয়ে যত বার সরকারী দান অনুদান আসে তত বারই ওনাকে ওই অনুদান থেকে তোলা দিতে হয়। এবারও স্লিপের ৪০ হাজার টাকা থেকে তিনি ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। যে টাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নিজ হাতে দিয়েছেন। ফসল রক্ষায় বেড়া আর যদি বেড়ায় ফসল খায় তাহলে এমন বেড়ার দরকার নেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতার মাধ্যমে এই নিয়োগে অর্থ বানিজ্য বন্ধ করে সঠিক ধারায় মেধানুসারে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ জানান তারা।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
