
শাহরাস্তি প্রতিনিধি ঃ- চাঁদপুরের শাহরাস্তির প্রধান সড়কের বেহাল দশা, ঝুকি নিয়ে করছে জাল চলাচল। মেহের-লোট্রা এবং উঘারিয়া-চিতোষী সড়কের খানাখন্দ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন জন দুঃখের সড়কে পরিণতি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ পৌঁছছে চরমে। ওই জনপদে বসবাসকারী অধিবাসীরা খানাখন্দের লক্কড় ঝক্কর ঝামেলা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন ছুটছেন গন্তব্যে। এ রাস্তার দুর্ভোগের কথা ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধীদলীয় জনসভা সমাবেশে চাউর শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারেও শোভা পাচ্ছে। তাতেও ভুক্তভোগীদের প্রতিকার না হওয়ার কথা এলাকায় সরব রয়েছে।সড়কের দুপার্শ্বে বাসিন্দা, এলাকাবাসী, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানায়, গত ১০ বছর ধরে মেহের কালিবাড়ী বাজার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার পানিওলা বাজার এবং সূচীপাড়া-চিতোষী ভায়া উঘারিয়া পর্যন্ত এ দূরবস্থা বিরাজ করছে। এরই মধ্য পৌর এলাকার ছিখটিয়া, গুদাড়া-গন্ধ্যবপুর, এসুরবাড়ী, শোরসাক বাজার, রাগৈ স্কুল, হাসেমের দোকান, রাগৈ দক্ষিন, লোটরাবাজারসহ কোমরতলা পর্যন্ত খানাখন্দের স্বর্গে পরিণত হয়েছে। রাগৈ গ্রামের পুস্তক ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক বলেন, গত তিন বছর আগে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ঘষা মাজা না করে সামান্য সিলকোট দেওয়ায় দু’মাসের মাথায় তা স্বরূপে ফিরে যায়। এর পর রাস্তাটির পিচের প্রলেপ নষ্ট হয়ে বিভিন্ন স্থানে কাঁচা সড়কে রূপ নেয়। ওই ক্ষতবিক্ষত রাস্তাটিতে ভারি যানবাহনের দাপিয়ে বেড়ানোয় বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় বিশাল বিশাল গর্তের। ওই দুরবস্থা শুষ্ক মৌসুমে যেনতেনভাবে পার হলেও, বর্ষার আগমনে রাস্তায় গর্তে পানি জমে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, গত ১০ বছরে মধ্যে সড়কে সংস্কার করা হলেও তা ছিল আইওয়াশ, ব্রিকওয়ার্ক ও সিলকোটের মতো দায়সারা গোছের কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, অর্থের যোগান কম থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কটি এল.জি.ই.ডি থেকে (ফিডার সড়ক) হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহণ করে বহু আগে রাস্তাটিকে জেলা সড়ক কাগজপত্রে রূপান্তর করে, যা গত ১৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে এ সড়কে পথ চলতে গিয়ে বহু লোক মৃত্যুসহ অনেকে পংগুত্ব বরণ করেছেন। ২০১৬ সালে সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউপির যুবলীগের সভাপতি মনির হোসেন (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ৬ মাস অসুস্থ থাকেন। চলতি বছরে রাগৈ মুন্সীবাড়ীর সুমাইয়াকে (৫) ট্রাকটার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপ দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এভাবে এসড়কের খানাখন্দের উপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ৪টি ডিগ্রি কলেজ, ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাদরাসা ও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮টি কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশা নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। আবার ১৫ কি. মি. চৌহদ্দির মধ্যে শাহ্রাস্তির ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র হওয়ায় রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় চলাচল করছেন।এহেন বেহাল সড়কে গর্ভবতী ও হার্টের বেশির ভাগ রোগী শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না আসতে পেরে লক্ষীপুর, রামগঞ্জ ও চাটখিলের হাসপাতালে ছুটছেন।
অন্যদিকে ওই জনপদে রয়েছে ১০-১৫টি ডেইরি ও পোল্ট্রি খামার। সর্দার বহুমুখী ফার্ম লি: মালিক আঃ মতিন সর্দারসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমার ফার্মের উৎপাদিত ডিম যোগাযোগের কারণে শাহরাস্তি সদরে বিক্রয় করতে না পেরে হাজীগঞ্জ, রামগঞ্জ, চাটখিল, লক্ষ্মীপুরে বাজারজাত করছি।
শিরোনাম:
রবিবার , ৭ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
