প্রতিনিধি
গতকাল ১৬ মে শাহ্রাস্তি উপজেলার হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ফাতেমা আক্তার রিনা (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘটে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এ ঘটনায় ফাতেমার স্বামী রুবলকে আটক করেছে।
নিহত ফাতেমার স্বামী রুবেল জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম রিনা তাদের ঘরে অবস্থান করছিলো। এ সময় রুবেল পাশের কক্ষ থেকে তার স্ত্রীর গায়ে আগুন লাগার দৃশ্য দেখতে পায়। সে তাৎক্ষণিক তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে সিএনজি স্কুটারযোগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নেয়া হলে বিকেল সাড়ে ৩টায় ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ফাতেমার ভাই জহিরুল ইসলাম টিপু (২০) জানান, তার বোনের স্বামীর জেঠাতো ভাই মোহাম্মদ উল্লাহর ফোনের মাধ্যমে বোনের দুর্ঘটনার কথা জানতে পেরে তারা কুমিল্লা ছুটে যায়। তার বোন মৃত্যুর পূর্বে তাকে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে জানায়। টিপু আরো জানায়, রুবেল তার বোনকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করলে তাদের সমঝোতাও করা হয়।
টিপু আরো জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা বিভিন্ন পন্থায় রুবেলকে যৌতুক দেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে তাদের বিবাহ হয়। তাদের সংসারে রায়হান নামের ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
গতকাল রাত সাড়ে ৭টায় ফাতেমার মরদেহ তার বাবার বাড়ি শাহ্রাস্তি পৌরসভার সোনাপুর গ্রামের নূরের বাড়িতে আনা হলে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। শাহ্রাস্তি থানা পুলিশ এ ঘটনায় স্বামী রুবেলকে আটক করেছে। আর নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় তারা (নিহতের শ্বশুর-শাশুড়ি) বাড়িতে ছিলেন না। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।
