প্রতিনিধি
শাহারাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের বলশিদ গ্রামের কলাতি বাড়ির মৃত আঃ মতিনের কন্যা শিরিন আক্তার (২২) নবজাতক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর অধিকার আদায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। একই বাড়ির হাফেজ আঃ গণির পুত্র শফিকুর রহমান শিরিনকে বিয়ের পর গা ঢাকা দিয়েছে।
ঘটনা বিবরণে শিরিন আক্তার জানান, দীর্ঘ ৩ বছর আপন চাচাত ভাই শফিকুর রহমানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর উভয়ের সম্মতিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে তারা চাঁদপুর নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর শিরিন আক্তারের গর্ভে সন্তান আসলে বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে শফিকুর রহমান গর্ভে থাকা সন্তানটিকে নষ্ট করার প্রলোভন দেখায়। এতে শিরিন রাজি না হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো প্রকার সুফল পাওয়া যায়নি। এরপর শিরিন বাদী হয়ে গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মামলা দায়ের করেন। সে থেকে শফিকুর রহমান গা ঢাকা দেয়। বর্তমানে সে কোথায় রয়েছে তা কেউ বলতে না পারলেও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শফিকুর রহমান তার পারিবারিক লোকজনের আয়ত্তে রয়েছে। এদিকে শিরিনের আরেক চাচাত ভাই বিল্লাল হোসেন বোনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে সমাজে অপপ্রচার চালাচ্ছে শফিকের লোকজন।
বিল্লাল জানান, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার ধানের মাড়ায় আগুন দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
এদিকে গত ১০ মে ২০১৪ তারিখে শিরিন আক্তার কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। এখন তিনি সন্তানের পিতার অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছেন। শিরিন বলেন, আমি আমার স্বামীর অধিকার পেতে চাই। আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার বাবার পরিচয় দেয়াই আমার একমাত্র আকুতি। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।
শিরিন বর্তমানে বলশিদ এলাকায় থাকেন। শিরিন স্থানীয় মনোয়ারা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করছেন। শিরিনের পরিবারের অভিযোগ উক্ত এলাকার একই বাড়ির জাকির মাস্টার মোটা উৎকোচের মাধ্যমে শফিকের পক্ষে শিরিনদেরকে উক্ত ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেয় এবং বাড়াবাড়ি করলে ভিকটিমকে মিথ্যা মামলা, হামলা ও অপবাদ দেয়ার হুমকি দেয়। উক্ত বিষয়ে কয়েকবার সালিস বসলেও জাকির মাস্টারের ষড়যন্ত্রের কারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
