প্রতিনিধি
শিশু মোহছেন হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। হত্যার ৬৭ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। চাঁদপুর জেলার শাহ্রাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মোক্তার আহাম্মদের শিশুপুত্র মোঃ মোহছেন (৫)কে গত ৪ এপ্রিল গলা টিপে হত্যা করে একই বাড়ির মেহেদী হাসান। হত্যার পর মোহছেনের লাশ রাগৈ বিল খালে পরিত্যক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পোস্ট মোর্টেমের জন্যে লাশ মর্গে প্রেরণ করে এবং ঘাতক মেহেদী হাসানকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। ৬ এপ্রিল মোহছেন হত্যাকারী ঘাতক মেহেদী হাসান আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে যে, সে নিজেই মোহছেনকে প্রথমে ঘুষি মারে ও পরে গলা টিপে হত্যা করে। আদালত হত্যাকারী মেহেদীকে টঙ্গী গাজীপুর শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।
মোহছেন হত্যার ঘটনায় তার পিতা মোক্তার আহাম্মদ বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামী করে শাহ্রাস্তি থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা করার সময় ঘাতক মেহেদীর বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করতে চাইলে থানা পুলিশ ১৪ বছর বয়স উল্লেখ করে। হত্যার ৬৭ দিন অতিবাহিত হলেও ঘাতক মেহেদী হাসানের সহযোগিতাকারীদেরকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করেনি। মেহেদী হাসানের পিতা ফয়েজ আহম্মেদ ও মাতা ফাতেমা আক্তার মনির সহযোগিতায় সে মোহছেনকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ থানা পুলিশকে জানালেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা তাদেরকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। শিশু মোহছেন হত্যার ঘটনায় শাহ্রাস্তি থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ঐ এলাকার মানুষজনের মাঝে বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করার পরও থানা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করার রহস্য কী?
অনেকেই বলছেন, বাদী পক্ষ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করায় মামলার অগ্রগতি নেই। তাই মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদ ট্রেনিংয়ে চলে যান। ট্রেনিং থেকে আসলে মামলার বিষয়টি ভালো করে দেখা হবে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদী পক্ষকে আশ্বাস দেন। মামলার বাদী নিহত শিশু মোহছেনের পিতা মোক্তার আহাম্মদ জানান, আমার ছেলে হত্যার ৬৭ দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেনি। ঘাতক মেহেদীকে তার পিতা ফয়েজ আহমেদ ও মাতা ফাতেমা আক্তার মনি মোহছেনকে হত্যায় সহযোগিতা করে। তাদের নাম থানা পুলিশকে বললেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। মামলার অগ্রগতিতে বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ মামলাটি নিয়ে টালবাহানা করছে। মোহছেন হত্যার প্রধান আসামীর প্রকৃত বয়স বললেও পুলিশ তার বয়স কম দেখায়। আমি আমার সন্তান হত্যার প্রকৃত বিচারের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এলাকাবাসী জানান, একটা নিষ্পাপ শিশুকে যারা হত্যা করতে পারে তারা যে কোনো বড় ধরনের হত্যা করা অসম্ভবের কিছু না। শিশু মোহছেনকে শুধু মেহেদীই একা হত্যা করেনি। তাকে যারা হত্যার জন্যে সহযোগিতা করছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিন্তু শাহ্রাস্তি থানা পুলিশের তৎপরতা নেই। শিশু মোহছেন হত্যার ৬৭ দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকারীকে যারা সহযোগিতা করেছে পুলিশ এখনো তাদেরকে গ্রেফতার করেনি। আর হত্যাকারী মেহেদীর জন্ম সনদসহ প্রকৃতভাবে তার বয়স প্রায় ১৮ হলেও তার বয়স ১৪ বছর দেখিয়ে মামলা নেয় পুলিশ। যার কারণে মেহেদীকে আদালত টঙ্গী-গাজীপুর শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। ইউপি সদস্য মহিন জানান, হত্যাকারীর বিচার হওয়া প্রয়োজন। সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করা প্রয়োজন। যাতে আর এ ধরনের কোনো ঘটনা কেউ ঘটাতে সাহস না পায়।
চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন। ওসি সাহেবকে বলেছি শিশু মোহছেন হত্যার সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদ জানান, পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট এখনো আসেনি। এটা একটা মার্ডার কেইস। আমি ট্্েরনিংয়ে আছি। ৯ জুন ট্রেনিং থেকে গিয়ে মামলার বিষয়টি দেখবো। নিহত মোহছেনের মামা হাফেজ মাওলানা ইলিয়াছ জানান, মোহছেন হত্যার প্রধান আসামী মেহেদীকে যারা পরামর্শ ও সাহস দিয়ে সহযোগিতা করেছে তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। ডাঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশু মোহছেনকে পোস্ট মোর্টেম করতে গিয়ে হত্যার কিছু আলামত পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসলেই হত্যার বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। শাহ্রাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রেনিং থেকে আসলে মামলার বিষয়টি নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, যারা হত্যা করেছে তাদের নাম জানা গেছে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর বলেন, আসামী আটক হয়েছে তার জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। বাদী যদি অন্য কাউকে আসামী করতে চায় তাহলে কোর্টে নারাজি দিয়ে তা করা যাবে।
