ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ মার্চ রাতে রহস্যজনকভাবে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নববিবাহিত সোহাগ। নিখোঁজ হওয়ার পর এ নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তাকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালায় পুলিশ প্রশাসন। সর্বশেষ গতকাল ১৪ মার্চ নিখোঁজ হওয়া সোহাগ আছরের নামাজ আদায় করে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে। এ সময় হাজীগঞ্জ কওমী মাদ্রাসার ছাত্র সোহাগের জেঠাত ভাই জাকির হোসেন (১৫) মসজিদে তাকে দেখতে পেয়ে তার কাছে এসে কথা বলে। জাকির জানায়, সে সোহাগকে দেখে বলে, সোহাগ ভাই! আপনি এখানে কী করছেন, আপনাকে সবাই খোঁজাখুঁজি করছে। তখন সোহাগ তাকে জানায়, ক’জন লোক তাকে নিয়ে যায়। ১ দিন রাখার পর ছেড়ে দেয়। তারপর জাকির হোসেন তাকে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে একটি সিএনজি স্কুটারে উঠিয়ে দেয়।
জাকির তার বড় ভাই আব্দুল খালেককে বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবহিত করে। আঃ খালেক সোহাগকে একা পাঠিয়ে দেয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। তারপর জাকির হাজীগঞ্জ থেকে দোয়াভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং খালেক দোয়াভাঙ্গায় পৌঁছে সিএনজি স্কুটার তল্লাশি করে তাকে পায়নি।
বিষয়টি শাহ্রাস্তি থানা পুলিশ অবহিত হওয়ার পর হাজীগঞ্জ কওমী মাদ্রাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাকির হোসেনকে থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার খিলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাস্তার পাশে সোহাগকে পড়ে থাকতে দেখেন সাংবাদিক ফারুক চৌধুরী, হাসানুজ্জামান ও আমিনুল ইসলাম। তারা মোটর সাইকেলযোগে আসার পথে তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় বলে তারা জানান।
এদিকে সোহাগ উদ্ধার হওয়ার খবর শুনে শত শত মানুষ হাসপাতালে জড়ো হতে থাকে। হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে গ্লোকোজের অভাব রয়েছে। এছাড়া আপাতত কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে বিস্তারিত জানা যাবে।
সোহাগের জ্ঞান ফিরলে নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত ক’দিন যাবৎ উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

