নিজেই বলেন আমি সৎ, ঘুষ খাইনা, ঘুষকারীদের প্রশ্রয় দেইনা। তিনি হলেন হাজীগঞ্জ পৌর সভায় মেয়র আলহাজ্জ্ব আবদুল মান্নান খাঁন বাচ্চু। এবাং স্বয়ং তার যোগসাজশে গোপনে দুই কোটি আটাশি লাখ টাকার টেন্ডারের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পৌর প্যানেল মেয়রসহ সকল কাউন্সিলর ও পৌর ঠিকাদারগণ বিক্ষোভ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর প্যানেল মেয়র এর কার্যালয় ও পৌর ভবনে সম্মুক্ষে কাউন্সিলর ও ঠিকাদারদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
গত ২ জুন পৌরসভার উন্নয়ন কাজের জন্য বিশ্ব সংস্থা ইউপিআইআইপি’র অর্থায়নে দুই কোটি আটাশি লক্ষ টাকার টেন্ডার হয়। মেয়র ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে গোপনে টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পৌর প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের কাজটি পেতে ৭ টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডর ফরম ক্রয় করেছেন। তাদের মধ্যে ৩ টি টেন্ডর জমা পড়েছে। কাজটি কোন প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তা এখন নির্ধারণ করা হয়নি। টেন্ডার জমা দেয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো মেসার্স রুহিদাস বণিক এন্টার প্রাইজ, মেসার্স আকবর এন্টারপ্রাইজ ও আরাধনা এন্টারপ্রাইজ। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রুহিদাস বণিক লো অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে ঠিকাদারগণ অভিযোগ তুলেছেন, এই প্রকল্পের টেন্ডারের বিষয়টি কেউ জানেন না। কোন প্রকার নোটিশ বোর্ডে নোটিশ টাঙ্গানো হয়নি। এছাড়া নিয়ম মোতাবেক সকল ঠিকাদার ও পৌর কাউন্সিলরদের চিঠির মাধ্যমে অবহিত করার কথা। কিন্তু মেয়র নিয়মের বালাই না দেখে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে মেসার্স আকবর এন্টারপ্রাইজকে কাজটি দিয়েছেন।
পৌর প্যানেল মেয়র আবুল কাশেম বলেন,গত ২ জুন তারিখে কোন টেন্ডারের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। গোপনে এই টেন্ডার দেয়াটা ঠিক হয়নি মেয়র সাহেবের। আমরা জনপ্রতিনিধি, আমরাই জানি না পৌর টেন্ডারের বিষয়টি। একই সাথে পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আবু বক্কর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পৌরসভার ঠিকারদার মেসার্স বশির এন্টার প্রাইজের বশির মজুমদার বলেন, টেন্ডরের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা মেয়রের প্রতি নিন্দা জানাই।
ঠিকাদার ফারুক, বিল্লাল, শাহনেওয়াজ ও কাজী খোকন জানায়, ‘ বিদেশী প্রকল্প আসলেই মেয়র গোপনে টেন্ডার দিয়ে আসছে। এবারও আমাদের না জানিয়ে একটি নি¤œমানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কোটি টাকার কাজ দিতে মেয়র উঠে পড়ে লেগেছে।’
পৌর প্রকৌশলী মো. আবদুস ছালাম মিয়া বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবো না। মেয়রের সাথে কথা বলতে পারেন।
পৌরসভার টিএলসি মিটিংয়ে টেন্ডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মেয়র আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু জানান, কাজটি সঠিকভাবে করা হয়েছে। কোন অনিয়ম থাকলে সেটা উর্ধ্বতন টিসি দেখবে। আপনার পারলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, ‘পৌর সভার কোন দপ্তরে গিয়ে ডিষ্ট্রাব করা যাবে না। যা বলার আমিই বলে দিয়েছি।’
শিরোনাম:
বুধবার , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

