স্টাফ রিপোর্টার: ‘জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে সাড়ে ১২শ’ টাকা, আর পরের মাসের অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের বিল মার্চে এসেছে সাড়ে চার হাজার টাকা!’ অবিশ্বাস্য এমন ভূতুড়ে বিলের শিকার হয়ে এর থেকে নিস্তার পেতে শত শত গ্রাহক চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ভূতুড়ে বিলের শিকার চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডবাসী মিছিল নিয়ে এসে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন। তবে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অর্থাৎ মিছিল বিদ্যুৎ অফিসে পেঁৗছার আগেই চারজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান নেয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গতকাল বেলা ১২টার দিকে চাঁদপুর শহরের নতুনবাজারস্থ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ কার্যালয়ের গেইটের সামনে বিক্ষোভ করছে। সাথে অনেক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তখন জানা গেলো, বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি কার্যালয়ের ভেতরে গেছেন। তখন ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সিবিএ অফিসে চারজন পুলিশ ইন্সপেক্টরের উপস্থিতিতে ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলমগীর গাজী। ওয়ার্ডবাসী আরিফ ইকবাল লিটু তালুকদার ও ইবু গাজীসহ কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেনের সাথে কথা বলছেন।
এ সময় একজন গ্রাহক জানান, তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন সাড়ে ১২শ’ টাকা, আর গত ক’দিন আগে তার ফেব্রুয়ারি মাসের বিল এসেছে সাড়ে চার হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য ভূতুড়ে বিলে তিনি হতবাক। ১৩নং ওয়ার্ডের অনেকেই এর ভুক্তভোগী। তিনি অভিযোগ করেন, গত মাসে প্রি-পেইড মিটার লাগানোর জন্যে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন তাদের এলাকায় যায়। তখন সম্মিলিতভাবে কেউই মিটার লাগাতে দেয়নি। এরপরই অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিল দেয়া হয়। মিটার লাগাতে না দেয়ার কারণ হিসেবে তারা বলেন, মিটারে কার্ড রিচার্জ সেন্টার মাত্র একটি। আর সেটি শহরের নতুনবাজার এলাকায়। আমরা ১৩নং ওয়ার্ডবাসী হচ্ছি ওয়্যারলেস মুন্সীবাড়ি এলাকার। যা শহরের পূর্ব প্রান্তে এবং নতুনবাজার থেকে অনেক দূরে। তাছাড়া এখনই নতুনবাজারস্থ রিচার্জ সেন্টারে এসে গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রি-প্রেইড মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে। সংযোগ আরো বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। এ কারণেই আমরা এখন প্রি-প্রেইড মিটার বসাতে দেইনি।
পৌর কাউন্সিলর আলমগীর গাজীও একইভাবে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের কথা জানালেন। এদিকে বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেন তাৎক্ষণিক চাঁদপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মোবাইলে বিষয়টি জানালে তিনি ছুটির দিন হওয়ায় চাঁদপুরের বাইরে আছেন বলে জানান এবং এ বিষয়ে আজ রোববার বিকেল ৪টায় অফিসে বসবেন বলে জানান। এরপর বিক্ষোভকারীরা চলে যান।
বিক্ষোভকালে ডিআইও-৩ ইন্সপেক্টর আবদুর রব, মডেল থানার ইন্সপেক্টর মনির আহমেদ, ইন্সপেক্টর হারুন অর-রশিদ ও নতুনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সিরাজুল মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে অবস্থান নেয়।
উল্লেখ্য, ভুতুড়ে এমন বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ চাঁদপুরের পিপি অ্যাডঃ আমান উল্লাহও গত আইনশৃঙ্খলা সভায় অবহিত করেন।
