
শওকত আলী =
চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা ফেরী ঘাট এলাকায় অবস্থিত বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির ঢাকনা বিহীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী সকালে নিহত হয় আছমা আক্তার পাখী(৩)।ঐ এলাকার বেড়ীবাঁধের নীচে বসবাসকারী গোবিন্দিয়া এলাকার হাওলাদার বাড়ীর জেলে আলমগীরের সন্তান আছমা আক্তার পাখী।সে প্রতি দিনের ন্যায় খেলার চলে সেখানে গিয়ে ট্যাংকিতে পড়ে নিহত হয়। তার এ মৃত্যু বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির গাফিলতির কারনে হয়েছে মর্মে পত্রিকায় খবর প্রকাশে পর ঢাকার চিল্ড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন(সিসিবি ফাউন্ডেশন) নামের একটি সংস্থা হাই কোর্টে সম্প্রতি পরিবারের ক্ষতি পূরন বাবদ ২০ লক্ষ টাকা দাবী করে রিট করে। হাই কোর্ট পাখীর পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পুরন কেন না, বলে গত ১৫ মে হাই কোর্টে এক শুনানীতে ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি রুল জারী করে।এ খবর শুনে নিহত আছমা আক্তার নিহা পাখীর পরিবার খুশি হলেও তার মা নাজমা ব্গেম সন্তান হারা বুক ফাঁটা বেদনায় আজও তার কান্না থামেনি।মায়ের আকুতি মালটা খেয়ে শিশুটি আমার খেলতে গেল । আর আসলো না।পাখীকে আমি আর মালটা খাওয়াতে পারবো না। পাখীকে হাারিয়ে গত ৪ মাসেও তাদের কান্না থামেনি । পাখী পরিবার সহ ঐ এলাকার প্রতিবেশীদের মধ্যে এখনও শোকের ছায়া কাটেনি।তারা যে মাঠে পাখী খেলতো,সে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকে সারা দিন।আর তার মা ওখানে দাঁড়িয়েই কান্না করতে থাকেএবং অন্য শিশুদের খেলা উপভোগ করে। পরিবারটি বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে পাখীর প্রাণ গিয়েছে বলে তাদের দাবী। পরিবার ও আত্মীয় স্বজন প্রকৃত বিচার চায়।তাদের শাস্তি দাবী করেন।পাখীর মা নাজমা বেগম অপর ২ সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।্ আর শোকে পাথর হয়ে বলতে থাকেন পাখীকে কি আর দেখতে পাবো না।পাখী কি খেলা করে এসে দুপুরে খাবার খাবেনা। টাকা পেলে কি হবে।সন্তানতো আর পাবো না।পাখীকে ছাড়া আমি বাঁচবো কি করে। নাজমা বেগমের ২ সন্তানকে জড়িয়ে থেকে তার জীবনটা বেঁচে আছে।পাখীর মা নাজমা বেগম ও ঐ এলাকা বাসির দাবী বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির মাঠে এখানকার কর্মচারীরা সুইপার ও বেদে পরিবারদের মাঠে থাকার জায়গা দেওয়ায়,শিশুরা ভবনের পিছনে গিয়ে সেপটি ট্যাংকির উপর খেলতে গিয়ে এঘটনা ঘটেছে।সন্তানতো পামুনা,বিচার চাই।সরকার ক্ষতিপুরন দিলে বেঁচে থাকা ২ ছেলে মেয়েকে ভাল করে পড়াশুনা করাবো।
প্খাীর পিতা আলমগীর হাওলাদার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, পৌর মেয়রের সামনে বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির এক কর্মচারী আমার পায়ে ধরে কান্না করে।তখন আমি তাদের আকুতিতে বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির উপ-পরিচালক-চাঁদপুরবন্দর কর্মকর্তা,মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে টিপ সহি রাখে।নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকরি। আমি গরীব মানুষ। আমার অনেক আদরের সন্তান পাখীকে হারিয়ে এখন কাজ ভাল লাগেনা। পথে পথে গুরে বিড়ায় আলমগীর । আমি গবীর মামলা করার অর্থ নাই। আমার অভিভাবক নাই।চিল্ড্রেনস চ্যারেটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন যে কাজটি করেছে আমার হয়ে,তাতে এ সংস্থা ও সকল কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। তারা যে কাজটি করেছে,সঠিক করেছে।এ সংস্থার সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।আইনী লড়াই করে মানুষের কল্যানে কাজ করার জন্য যে কাজটি করা হয়েছে,তাহা প্রশংসার দাবী দার।যে সব সাংবাদিক ও পত্রিকার সম্পাদকরা আমার মেয়ে পাখীর খবরটি পত্রিকায় ছাপিয়ে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে,তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
হাই কোর্টের রিটে সিল্ড্রেনস চ্যারেটি বাংলাদেশ সংস্থার ব্যারিষ্টার আঃহালিম কর্তৃক হাই কোর্টে রিট্ করার পর হাই কোর্টের বিচার পতি ৪ সপ্তাহে সময় নির্ধারন করে দিয়ে যাদের বিরুদ্ধে পাখীর পরিবার ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পুরন কেন নয়- হাই কোর্টের রুলের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে চাঁদপুরে দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগকরা হইলে তারা যা বলেন ।চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা ফেরী ঘ্টা এলাকায় অবস্থিত গোবিন্দিয়া রাস্তার পার্শ্বে শতাধিক পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ বসবাস করে।তাদের সেখানে সন্তানদের খেলা ধুলার কোন জায়গা না থাকায় ঐ পরিবারগুলোর শতাধিক শিশু যাদের বয়স ১ বছর থেকে ৮ বছর পর্যন্ত রয়েছে।এরা খেলা ধুলার মাঠ না থাকায় বি,আই,ডব্লিউ,টি বিশাল খোলা মাঠটিতে খেলাধুলা করে আনন্দ উপভোগ করে।মাঝেমধ্যে সেখানে বি,আই,ডব্লিউ,টি কিছু অসাধু কর্মচারী সেখানে মাঠে বিভিন্ন প্রকৃতির মানুষকে তাবু টানিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দেয়।যার ফলে শিশুরা খেলা ধুলা করতে গিয়ে বিঘœ সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে শিশুরা সেপটি ট্যাংকির উপর খেলা ধুলা করতে গিয়েই দুর্ঘটনার স্বীকারে পড়ে।এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।এসব শিশুরা ঐ এলাকায় ১১০নং সাফলেজা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গোবিন্দিয়া মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও হরিনা চালিতাতলী এ এডওয়ার্ড ইনিষ্টিটিউটে পড়াশুনা করে থাকে।
এব্যাপারে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার সামছুন্নাহার বলেন,ঘটনার পর তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। বি,আই,ডব্লিউ,টিসির কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক করেছি।কতগুলো এধরনের ঢাকনা বিহীন সেপটি ট্যাংক রয়েছে সেগুলো ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির অসতর্কতার জন্য ঘটনা ঘটেছে।এটা আইন শৃংখলার বিষয় নয় ও আমার দায়ীত্বের মধ্যে না। হাই কোর্টের ২০ লক্ষ টাকার রুল জারীর বিষয়ে চিঠি ফেলে সেটা রিপ্লাই দিবো।
এব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উদয়ন দেওয়ান বলেন,ফোনে কোন জবাব দিব না। ফোনে কিছু বলা যায় না।আইডেন্টির ব্যাপার আছে।এটা আদালতের ব্যাপার,সেখানেই বলবো।
চাঁদপুর বি,আই,ডব্লিউ,টির বন্দর কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ঘটনার শুনার পর তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যাই।ঘটনার সত্যতা পাই।কিছু দুস্কৃতিকারী নেশা গ্রস্থ্যকারীরা সেখানে নেশা করে ঢাকনা সরিয়ে ফেলেছে।যার ফলে ঘটনা ঘটেছে।নেশার প্রমান পাই। বি,আই,ডব্লিউ,টি,সির কোন অবহেলা ছিল না। এব্যাপারে ঐ পরিবারের কোন দাবী নেই বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকারনামা দিয়েছে আমার বরাবর।এব্যাপারে হাই কোর্ট থেকে একজন ব্যারিষ্টার আমাদের কাছে সোমোটো রুল জারী করে জবাব চায়।কেন ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবেনা,কারন দর্শানো হয়।আমরা তার জবাব দেই ।বর্তমানে হাই কোর্ট রুল জারী করেছে,তা আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সফিকুজ্জামান বলেন,ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নাই। আমি কিছুই জানিনা।হাই কোর্টের বিষয়টি আইনী ব্যাপার।তা আইনী প্রক্রিয়ায় চলবে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না।আইনী ব্যাপার আইনী প্রক্রিয়ায় চলবে।এটাই আমি বুঝি।তবে বিষয়টির ব্যাপারে আমি অবগত নই।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃমামুনুর রশিদ বলেন,অকালে একটি শিশু ঝড়ে পড়বে তা কাম্য নহে।জীবনটা সহজ নয় ।এই ব্যাপারে তদন্ত পূর্বক সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করা ধরকার।যাকেই বিবাদী করুক, তাতে কিছু যায় আসে না।খবর নিয়েছি শিশু নীচে ছিল উপর থেকে কাঠালের মুছি পাড়ছিল।আর সে নীচে খাচ্ছিল।এক পর্যায়ে সে খোলা ট্যাংকিতে পড়ে যায়।এটা ঐ সংস্থার ভুলে এই ঘটনা ঘটে ছিল।ঐ সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলাম মনে আছে।
