ফরিদগঞ্জ : ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সোনালী ব্যাংক ফরিদগঞ্জের গাজীপুর শাখার সাবেক ম্যানেজার সিবিএ নেতা হারুন-অর-রশিদ ঋণ বিতরণে লাখ লাখ টাকা অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তে দাপটের সাথে চাকরি করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক তেমন কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে চাঁদপুরের ব্যাংক পাড়ায় আলোচনার ঝড় বইছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব আত্মসাৎকৃত টাকায় গড়ে তুলেছে ছেলে, স্ত্রী ও স্বজনদের নামে-বেনামে ব্যাপক সম্পদ। প্রশ্ন উঠেছে, লাখ লাখ টাকা অনিয়ম করেও কর্তৃপক্ষকে খুশি রাখলে কোনও সমস্যা হয় না সোনালী ব্যাংকে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর সোনালী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার মো. হারুন-অর-রশিদ দায়িত্বে থাকাকালীন (২০১১-২০১২ ও ২০১২-২০১৩) অর্থ বছরে ভুয়া দলিলপত্র, পর্চাসহ বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কৃষি ঋণ, পল্লী ঋণ ও মাইক্রো ক্রেডিট খাতে ক্ষুদ্র খামার ঋণ নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়ে ঋণ প্রদান করেছে। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে বহু লেখালেখিও হয়েছে। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংক দু’সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই তদন্ত কমিটি দীর্ঘদিন ওই ব্যাংকের সরেজমিনে গিয়ে ঋণ বিতরণের এ অভিযোগের প্রমাণ পায়।
তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক ম্যানেজার মো. হারুন-অর-রশিদ তার দায়িত্বকালীন সময়ে কৃষি জমি না থাকলেও ভুয়া দলিলপত্র ও পর্চাসহ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একই ব্যক্তিকে দু’বার কৃষি ঋণ, কোনও পুকুর না থাকলেও মৎস্য ঋণ, ব্যাংকের ঋণ নাই সম্পর্কিত অনাপত্তি পত্রবিহীন, পিতা-পুত্রের নামে কৃষি ঋণ প্রদান, স্ত্রীর নেয়া ঋণে স্বামীর, স্বামীর নেয়া ঋণে স্ত্রী জামিনদার, অন্য পেশার লোকদের কৃষি ঋণ প্রদান ইত্যাদি ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ করে নিজেই লাখ লাখ টাকা আয় করেছে।
এছাড়া ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা বাজারে মেসার্স সবুজ স্টোরের নামে ট্রেড লাইসেন্সসহ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ৪ লক্ষাধিক টাকা ঋণ প্রদান করেছে। অভিযোগ আরও ভয়াবহ যে, ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ কৃষি জমিবিহীন ব্যক্তিদের মাঝে কৃষি জমি আছে বলে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে কৃষি ঋণ বিতরনের পর ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০শতাংশ টাকা কর্তন করে ঋণের টাকা প্রদান করেছে। এ ধরনের বহু অভিযোগ লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে, ওই ম্যানেজারকে প্রথমে পদোন্নতি দিয়ে শাহ্রাস্তি উপজেলার একটি শাখায় বদলী করা হয়েছিল। এরও প্রতিবাদ হলে পরবর্তীতে তাকে চাঁদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে নামমাত্র ওএসডি করা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় কোনও মামলা হয়নি বা কোনও ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এর ফলে ব্যাংকে অন্যান্য কর্মকর্তারাও বড় ধরনের অনিয়মের সুযোগ করে নিতে তোয়াক্কা করছে না বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
