চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
রাজধানীর কদমতলীতে ব্যবসায়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামের আবু জাফর (৪০) নিজ স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় খুন হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ জুন রাজধানীর কদমতলী নিজ বাসায় রাতের কোনো এক সময়ে।
নিহতের ভাই মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, গত ২৮ জুন রাজধানীর কদমতলী নিজ বাসাতেই রাতের কোনো এক সময়ে স্ত্রী নূরজাহান, তার ছেলে মোঃ সফিউদ্দিন এবং নূরজাহানের বোনের ছেলে ও অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে আবু জাফরকে গলাকেটে হত্যা করে। তারা আমার ভাইয়ের লাশ অন্য জায়গায় সরাতে না পেরে বাসার সামনে ফেলে ডাক চিৎকার দিতে থাকে। আশপাশের লোকজনকে তারা ডাকাতে মেরে ফেলছে বুঝাতে চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন এসে আমার ভাইকে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু তার পূর্বেই তিনি মারা যান। পরদিন সকালে থানা পুলিশকে ঘটনা জানানো হয়। সে সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে স্ত্রী নুরজাহানকে আটক জিজ্ঞাসা করলে সে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করে এবং হত্যার সাথে জড়িত থাকা ছেলে মোঃ সফিউদ্দিন ও বোনের ছেলের নাম বলে। সে আলোকে পুলিশ তাদের তিনজনকে আটক করে। ছিদ্দিকুর রহমানের কাছে ভাই হত্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাই দীর্ঘ দিন যাবৎ সিংগাপুরে ছিলেন। সে সুযোগে নূরজাহান চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের রতন নামের এক ছেলের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। সে রাজধানীর সাদ্দাম মার্কেটে দোকানদারী করতো। ওই ছেলের সাথে নূরজাহান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় ঘুরতে যেতো। এটি আমার ভাই জানার পর তিনি সিঙ্গাপুর থেকে একবারে চলে আসেন এবং নিজ বাসার সামনে একটি মুদি দোকান নিয়ে বসেন। গত পহেলা বৈশাখে ওই ছেলের সাথে ঘুরতে যাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমার ভাই নূরজাহানকে তালাক দেয়। পরে ব্যাপারটি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয় এবং এরপর থেকে তারা ঘর সংসার করে। কিন্তু তারপরও প্রতিনিয়ত আমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। আমার ভাই স্ত্রী নূরজাহানকে নিয়ে ২/১ দিনের মধ্যে দেশের বাড়িতে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু আসছে লাশ হয়ে। আবু জাফরের দুই ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। সোমবার রাত ৯টার সময় লাশ রাজারগাঁও পেঁৗছলে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। রাত ১০টায় রাজারগাঁও ঈদগাহে প্রথম জানাজা ও রাত ১১টায় দারুচ্ছালাম মাদ্রাসা মাঠে শেষ জানাজা শেষে নিজ বাড়ি পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

