ঘটনাস্থল : ফরিদগঞ্জ মদনেরগাঁও
স্বামীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার মরিয়ম বেগম মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে
মিজানুর রহমান
নেশার টাকার জন্য নির্দয় স্বামী মাজহারুল ইসলাম সুমনের অমানবিক নির্যাতনের শিকার দু�সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শাশুড়ি জাহানারা বেগম ও দেবর সুজনের প্ররোচনায় পাষণ্ড স্বামী সুমন তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামে গাজী (চৌধুরী) বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর নির্যাতনে গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী মরিয়ম বেগম চিকিৎসাধীন। তার এ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে চাচা মিজানুর রহমান (৪৫) জানায়, মোটর সাইকেল কেনারা জন্য দেড় লাখ টাকা শ্বশুরের কাছে দাবি করে আসছিল ভাতিজা জামাতা মাজহারুল ইসলাম সুমন। এ নিয়ে শ্বশুর আঃ মতিন কাজীর সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে সুমন। মোটর সাইকেল কেনা নয়, নেশার টাকার জন্য সে বেপরোয়া হয়ে মরিয়মের উপর দীর্ঘ দিন থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।
গত বুধবার সকালে স্ত্রীকে টাকার জন্য বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে মরিয়মকে মেরে ফেলার জন্য মুখে জোর পূর্বক বিষ খাইয়ে দেয়। চিৎকার শুনে ঘটনার পর পর বাড়ির লোকজন ছুটে আসে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। আহত মরিয়মের মা হোসনেয়ারা বেগম জানায়, দশ বছর আগে ২০০৩ সালের ২৮ মে একই গ্রামের মৃত আঃ লতিফের ছেলের সাথে মরিয়মের বিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে তাদের ঘরে দু�সন্তান রয়েছে। বিয়ের এক বছর মরিয়মের স্বামীর সংসার ভালোই কেটেছিল। সুমন কোন কাজ করতো না। এলাকায় রাজনীতি করতো। সেই থেকে সুমন বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। নেশা অবস্থায় প্রায় মরিয়মকে মারধর করতো। যৌতুকের টাকার জন্য নেশার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন সময় মারধর করে মেয়েকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিতো। মেয়ের সুখের জন্য মরিয়মের বাবা ও চাচারা সব অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করে যেতো। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড সুমন। সে কোন কাজ কর্ম না করে নেশার জগতে হাবুডুবু খায় আর ঘুরে বেড়ায়। চাচা ভাতিজির মুখের দিকে তাকিয়ে সুমনকে এয়ারপোর্টে চাকুরি দেয়। সেই চাকুরি না করে সুমন এলাকায় চলে আসে এবং আগের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। বিভিন্ন সময় চাচা মিজান অর্থ দিয়ে ভাতিজি জামাতাকে এবং নাতি-নাতনিকে সহযোগিতা করতো। মেয়ের ৩ ভাই প্রবাসে থাকার সুবাদে সুমন ভাইদের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রী মরিয়মকে চাপের মধ্যে রাখতো। কথা না শুনলে ছলচাতুরি অভিযোগ এনে চালানো হতো নির্যাতন। নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মেরে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় একাধিকবার। এলাকায় এ নিয়ে একাধিক দেন দরবার করা হলেও সুমন মুরব্বীদের কথা অমান্য করে চলেছে। উল্লেখিত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে মরিয়মের চাচা মিজান জানিয়েছে।
