১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে নবীনগর থানাধীন উয়ারুক বিলে মারা যায়
২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখ চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা ব্রাহ্মন বাড়িয়া নবীনগর খায়ের মিয়া (২৪) ১৯শে জানুয়ারী আসামী গ্রেফতার করা হয়।
স্মৃতির ক্যালেন্ডারে বন্দি জাকিয়া বেগম
নবীনগর থেকে প্রায় ৭ মাস ১০ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন
শাহরিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর শহরের ছায়াবানী এলাকার বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী জাকিয়া বেগম কে শ্বাশরুদ্ধ করে হত্যা করে ব্রাহ্মনবাড়িয়া নবীনগর উয়ারুক বিলে ফেলে রাখে দূরবৃত্তরা। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করে। সারা বাংলাদেশের সকল থানায় পুলিশ ওয়ালেছের মেসেজ পাঠানোর পর লাশের ছবি দেখে অবশেষে জাকিয়া বেগমের পরিবার তাকে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় জাকিয়া বেগমের বোন বাদী হয়ে ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসের ১২ তারিখে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নিজাম উদ্দিন ভূইয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে নবীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জানুয়ারি মূল হত্যাকারী খায়ের মিয়া (২৪) কে আটক করতে সক্ষম হয়। খায়ের মিয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় মোতাবেক নিজে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। জাকিয়া বেগমের পরিবার আদালতে লাশ উত্তোলনের জন্য আবেদন করলে অবশেষে ব্রাহ্মনবাড়িয়া নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে রোববার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজাম ভূইয়া কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেন। রবিবার রাতেই জাকিয়ার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। সোমবার ভোরে জাকিয়া বেগমের লাশ বড়ষ্টেশন এলাকায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। জাকিয়া বেগম নতুনবাজার জন্ডিশের ঔষুধ বিক্রেতা শহিদ বেপারীর স্ত্রী। স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন পারিবারিক কলহের জের ধরে সমস্যা চলে আসছিল। পরে জাকিয়া নবীনগরের খায়ের মিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। খায়ের মিয়া জাকিয়া কে বিয়ের প্রলোবন দেখিয়ে তার কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে জাকিয়া তাকে বিয়ের করার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ঘটনার দিন সকালে জাকিয়াকে নবীনগর আসার জন্য বলে। হত্যাকারী খায়ের মিয়ার কথা শুনে সে সড়ক পথে রওনা হয়। পরে রাতে জাকিয়াকে সাথে নিয়ে নবীনগর উয়ারুক বিলে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এমনি নৃশংস হত্যার ঘটনার পুলিশের কাছে বর্ণনা দিল হত্যাকারী খায়ের মিয়া। জাকিয়া বেগমের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছোট ছেলে মার ক্যালেন্ডারে বন্দি থাকা ছবি নিয়ে কাদতে দেখা যায়। জাকিয়ার ছেলে মেয়েদের দেখাশুনার ভার নেয় তার ছোট বোন পাপিয়া বেগম। দীর্ঘ ৭ মাস ১০দিন পর লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করে চাঁদপুর এনে দাফন করা হয়। আলোচিত এ হত্যার ঘটনায় মূলহত্যাকারীকে আটক করায় জাকিয়া বেগহমের পরিবারের মাঝে সত্বি ফিরে আসে।
