প্রতিনিধি
মেঘনার সর্বনাশা ভাঙ্গনের শিকার চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩নং হানারচর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে অবস্থিত চাঁদপুর-শরিয়তপুর ফেরির হরিণা ঘাট। গেল বর্ষায় এ ঘাটটি মারাত্মক ভাঙ্গনের মুখে ছিলো। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনির হস্তক্ষেপে সাময়িক ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থাও নেয়া হয়। হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ স্থাপন করায় ভাঙ্গনের তীব্রতা থেকে রক্ষা পায়। স্বস্তি ফিরে আসে ভাঙ্গন কবলিত গ্রামবাসীর মাঝে। সবাই অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় এমপি দীপু মনি হরিণা ফেরিঘাটসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার নদী তীর রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নিবেন। এক কিলোমিটার ভাঙ্গন রোধের জন্য একটি প্রকল্পও গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সে প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি বলে জেলা প্রশাসনের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জানিয়েছেন পাউবো চাঁদপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিক উল্যাহ। হানারচর ইউনিয়বাসীর দাবি, চলতি শুষ্ক মওসুমে সিসি ব্লক নির্মাণ করে ভাঙ্গন স্থানে বাঁধ দেয়া না হলে আগামী বর্ষায় হরিণা ফেরিঘাট রক্ষা পাবে না। ঘাটসহ এখানকার দ্বিতল পাকা মসজিদ, মাদ্রাসা, দোকানপাট, বসত ভিটা, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙ্গন আতঙ্কে জীবন যাপন করছে হরিণা ও গোবিন্দিয়া গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার।
গতকাল শুক্রবার সরজমিনে ভাঙ্গন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ভাঙ্গন রোধের জন্য যে সব বালু ভর্তি জিও ব্যাগ বসানো হয়েছিলো সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ বর্ষায় তার দুই-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিআইডাব্লিউটিসির চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিসের কমার্শিয়াল ম্যানেজার ইমরান হোসেন চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, বালু ভর্তি বস্তা ফেলার কারণে ফেরি ঘাটের নদী ভাঙ্গন সাময়িক রক্ষা পেয়েছে। এখন শুষ্ক মওসুমে সিসি ব্লকের কাজ করা হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এ অঞ্চলের ফেরিঘাট রক্ষা পাবে। তা না হলে টার্মিনাল ইয়ার্ডসহ চাঁদপুর ফেরি এলাকা হুমকির মুখেই থেকে যাবে। হরিণা ফেরিঘাট জামে মসজিদের পেশ ইমাম এবং মাদ্রাসার মোহতামেম মাওলানা মোঃ কেফায়েত উল্লাহ জানান, এমপি মহোদয়ের বদান্যতায় ফেরিঘাটের মসজিদ ও মাদ্রাসাটি রক্ষা সম্ভব হয়েছে। রক্ষার প্রকৃত মালিক সৃষ্টিকর্তা। মানুষ তার উসিলা। সে মানুষটি হলেন আমাদের প্রিয় এমপি মহোদয়। তিনি দ্রুত বালু বস্তার কাজটি যদি না করাতেন হরিণা ফেরি ঘাটের যে টুকু আছে তাও এতোদিন নদীতে চলে যেতো। তিনি আরো জানান, শুনেছি সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণের কাজ হবে। সে কাজটি করা হলে এলাকাটি মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে। ভাঙ্গন কবলিত জনপদের বাসিন্দা ও সরকারি কর্মচারী বিল্লাল শেখ (৫৫) জানান, হানারচর ইউনিয়ন ভাঙতে ভাঙতে ছোট হয়ে গেছে। তার বাপ-দাদার ভিটেমাটি নদীতে। নতুন করে বাড়ি করেছেন ফেরিঘাটে। এখানেও নদী কাছে চলে এসেছে। এবার ভাঙলে কোথায় যাবেন তা অনিশ্চিত। পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, হরিণা ফেরিঘাট রক্ষা প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
