চাঁদপুরে ছাত্রদের পিঠের উপর দিয়ে হেঁটে মানব সেতু পাড় হওয়ার ঘটনায়: চট্রগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এখন চাঁদপুরে
হাইমচর থানায় নূর হোসেনসহ ৫ জনের বিরুদ্বে অভিভাবকের মামলা: মানব বন্ধন পন্ড
শওকতআলী:
চাঁদপুর জেলার হাইমচর নীল কমল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পিঠের উপর হেঁটে মানব সেতু পাড় হওয়ার ঘটনায়, হাইমচর থানায় নূর হোসেন পাটওয়ারীসহ ৫ জনের বিরুদ্বে
এক জন অভিভাবক মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল বুধবার রাতে নীল কমল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো: আলমগীর হোসেনের পিতা আ: কাদের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আপর বিবাদীরা হচেছ,বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, প্রধান শিক্ষক মো: মোশাররফ হোসেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মুনছুর আহমেদ পাটওয়ারী, এম এ বাশার। অপর দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারীর পক্ষে স্থানীয় কিছু তার পালিত লোক একটি মানব বন্ধন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করলে,এলাকার সচেতন এলাকাবাসী মানব বন্ধনের ব্যানার ছিড়ে ফেলে এবং মানব বন্ধন পন্ড করে দেয় ।
জানাযায়, চাঁদপুরের হাইমচরের নীলকমল উচ্চ বিদ্যালয়ে সোমবার বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তৈরী করা ‘পদ্মা সেতু’ পিরামিডের উপর দিয়ে যখন জুতা পায়ে নিয়ে প্রধান অতিথি হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী ছাত্রদের পিঠের উপর হেঁটে সেতু পাড় হয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় উঠে। চাঁদপুরের এ আওয়ামী লীগ নেতার অমানবিকভাবে ক্রীড়া অনুষ্ঠান উদযাপন ফেইজবুকে দেখার পড় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য হাইমচর,চাঁদপুরসহ দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। এহেন কর্মকান্ডের জন্য সরকার যখন তদন্ত কমিটি ঘটন করেন,এ খবর পাওয়ার পর নূর হোসেনের পক্ষের একজন অভিভাবক পুবর্ চরকৃষ্ণপুর এলাকার মুৃনছুর আলীর পুত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র আলমগীর হোসেনের পিতা আ: কাদেরকে দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগসাজসে একটি মামলা দায়ের করেন। (এক সময় এ মামলার বাদীকে দিয়ে মামলাটি সমজোতা করবেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে)। মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাইমচর থানার এস আই মো: সুমন মিয়াকে। হাইমচর থানার অফিসার্স ইনচার্জ সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন,মামলা হয়েছে,মামলার ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে যা,যা,করার তা,তদন্তকারী কর্মকতা আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সাজানো মামলা সম্পকে জানতে চাইলে ওসি সঠিক জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মো. ইমরান হোসেন জানান, ছাত্রদের পিঠের উপর দিয়ে যে চেয়ারম্যান জুতা পায়ে যেতে পারে তাকে জুতা পিটা করে উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার থেকে নামিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তা,হলে উচিত শিক্ষা হবে। তাকে পশুর সাথে তুলনা করলেও ভুল হবে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র শোহরাব হোসেন ও নবম শ্রেনীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম জানান, হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী যে অমানবিক কাজটি করেছে, তার সাথে শিক্ষকরাও জড়িত রয়েছে। সরকার উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। তা, হলে এ ধরনের কাজসহ কোন অপরাধ কোথাও আর হবেনা। আমরা ছাত্ররা সঠিক শিক্ষা পাব।
এ ব্যাপারে সৈয়দা সারোয়ার জাহান,অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার চট্রগ্রাম ও অতিরিক্ত সচিবকে তদন্ত টিমের প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোট পেশ করবেন। তিনি এখন চাঁদপুর এসেছেন। এখান থেকে কমিটির অন্যদেরকে নিয়ে বিকেল ৩টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবেন।
