
হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে ১০টি পরিবার এলাকাছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ পরিবারগুলোর নিজেদের পৈত্রিক বাড়ি সম্পত্তি থাকার পরেও এলাকার একটি মহলের কারণে তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় থাকছে। ঘটনাটি উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের বানিয়াকান্দি এলাকার বকাউল বাড়ির। একটি খুনের ঘটনায় একটি কুচক্রী মহলের হামলার শিকার হয়ে ওই পরিবারগুলো এলাকা ছাড়া হয়।
জানা যায়, বানিয়াকান্দি গ্রামের বকাউল বাড়ির মৃত গনি মিয়ার ছেলে আঃ খালেক ২০১০ সালের শুরুর দিকে নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। সম্পত্তিগত বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের পুরো দায়ভার গিয়ে পড়ে একই বাড়ির মৃত মফিজ উদ্দিন বকাউলের পরিবারের উপরে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকার কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায় মৃত মফিজ বকাউলের পরিবারের উপর। ঐ হামলায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে নিজেদের বাড়ি আক্রমণ হবার পূর্ব মুহূর্তে পুরো ১০টি পরিবার এক কাপড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। সেই থেকে ঐ ১০টি পরিবারের অর্ধশতাধিক সদস্য এলাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায়ভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সম্প্রতি বকাউল বাড়িতে গেলে দেখা যায়, গ্রামের ৮/১০টি বাড়ি থেকে আলাদা এক বাড়ির পরিবেশ। মৃত খালেকের পরিবার ও তার আত্মীয়রা থাকেন বাড়ির দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি বসতঘরে। আর বাড়ির উত্তর অংশে মৃত মফিজ উদ্দিন বকাউলের অংশে হাহাকার মরুভূমির মতো অবস্থা। এ অংশটি বাড়ি ছাড়া মৃত মফিজ উদ্দিন বকাউলের ছেলেদের। এখানকার টিনের চৌ-চালা ঘরগুলো মাটির সঙ্গে পড়ে আছে। বিভিন্ন লতাপাতা এগুলোকে ঢেকে রেখেছে। একটিমাত্র টিনশেডের বিল্ডিংয়ের দরজা-জানালা অনেক আগেই খুলে নেয়া হয়েছে এটাই সম্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে। এই অংশে দু-একটি গাছ গাছালি ছাড়া বাকি সকল গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। এককথায় বাড়িতে বসতি না থাকলে যা হয় তা সহজেই অনুমেয়।
মৃত মফিজ উদ্দিন বকাউলের ছেলে আঃ আউয়াল। আঃ আউয়ালের ছেলে আঃ হক চাঁদপুর নিউজকে বলেন, খালেকের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান আছে। মামলা চলমান থাকার পরেও এলাকার একটি বিশেষ মহলের কারণে বাড়িতে যেতে পারি না। খালেকের পরিবার আমাদের প্রায় সাড়ে ৫ একর সম্পত্তিসহ বাড়ির সকল কিছু লুটেপুটে খাচ্ছে। আমাদের পৈত্রিক বিপুল সম্পত্তি থাকার পরেও গত প্রায় ৫ বছর আমাদের এ পরিবারগুলোকে বাড়ির বাইরে থাকতে হচ্ছে। এই বিচার কার কাছে পাবো।
