প্রতিনিধি
হাজীগঞ্জ উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্যের বিপরীতে হাজীগঞ্জ উপজেলা ব্যাপক অনিয়মের হিড়িক বিদ্যমান রয়েছে। বিগত ৫ বছরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে অর্থের বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপির একক আধিপত্য ছিল। এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগেও রাজনৈতিক মেরুকরণে পিছিয়ে নেই জামায়াত-বিএনপি। আর এই জামায়াত-বিএনপির অন্তরালে কাজ করছে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এমন অভিযোগ ও ক্ষোভ স্থানীয় ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ হবে। ইতোমধ্যে ৩৩ টি সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি বিদ্যালয়ে নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এই তিনটি বিদ্যালয় হলো সাদ্রা, টঙ্গীরপাড় ও লাওকোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৩৩টি বিদ্যালয়ে নিয়োগকৃত দপ্তরী কাম প্রহরী ৭০ ভাগ জামায়াত-বিএনপি সমর্র্থিত। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকায় ঘুষ দিয়ে সরকারী চাকরিটি লুপে নিয়েছে কিছু অযোগ্য প্রার্থী। অর্ধেকেরও বেশি নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরী নিয়োগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কারচুপি ও কারসাজিতে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ নিয়োগটি হয় উপজেলার দক্ষিণ বড়কুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যান্য প্রার্থীরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অনিয়মের অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে দেখা গেছে নিয়োগকৃত নুরুল ইসলামের বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরাতন ভোটার আইডি কার্ডনুযায়ী নুরুল ইসলামের বয়স ৩৫। এছাড়া রাজনৈতিক ভাবে জামায়াত সমর্থিত। অথচ নুরুল ইসলামের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। তবে এখনও অভিযোগকারীরা জানেননা অভিযোগের তদন্ত ফলাফল?
এভাবে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে ভুয়া সার্টিফিকের্টধারী ও অযোগ্যদের নিয়োগ দিতে একশ্রেণীর আওয়ামীলীগ নামধারীরা সরাসরি জড়িত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকটি স্কুলে একাধিকবার প্রার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এমনকি অভিযোগ প্রমাণের পরও অভিযুক্তকারী প্রার্থী অর্থের বিনিময়ে পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে।
দপ্তরী নিয়োগে নিয়মের বালাই না দেখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকগণ একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে লোকদেখানো পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তারিখের পরও নতুন প্রার্থীদের দরখাস্ত জমা নিয়ে অর্থ প্রদানকারী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে অর্থবাণিজ্য ও অনিয়মের প্রসঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল বলেন, এসব নিয়োগ কমিটির বিষয়। আমি নিয়োগ কমিটিতে নেই। নিয়োগে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি কোন মন্তব্য করতে নারাজ।
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
