মিজানুর রহমান : জাতীয় মৎস্য সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আজ ০১ মার্চ থেকে চাঁদপুর মেঘনা অববাহিকাসহ দেশের ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ। সরকার ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল এই দু’মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় সকল প্রকার মাছ ধরা ও জাল ফেলা নিষিদ্ধ করে ৪টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরে বা জাল ফেলে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জেল খাটা, জাল পুড়িয়ে দেয়া ও ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এসব জরিমানা এক বা একাধিকও হতে পারে। জাটকা রক্ষায় প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত জাটকার মৌসুম নির্ধারণ করে এ সময়ে জাটকা ধরা সম্পন্ন নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে মার্চ-এপ্রিল দু’ মাসের জন্য চাঁদপুরের বিস্তীর্ণ নদী সীমাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দু’মাস মাছ শিকার বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলেরা।
তারা জানায়, এই সময় আমাদেরকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। হাতে কোনো কাজ থাকে না। সরকারিভাবে মাসে ৩০ কেজি করে যেই পরিমাণ চাল দেয়া হয় তা দিয়ে জীবন চালানো কষ্টকর। জেলা মৎস্য অফিস জানায়, এবার চাঁদপুরে ২৬ হাজার ৩শ’ ৩৫ জন জেলেকে ৩০ কেজি করে ৪ মাস চাল দেয়া হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১০ হাজার, হাইমচরে ১১ হাজার, মতলব দক্ষিণে ৮শ’ ৩৫ জন এবং মতলব উত্তরে ৪ হাজার ৫শ’ জন জেলে রয়েছে। এসব জেলেদের ফেব্র�য়ারি থেকে মার্চ মাস থেকে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জেলার ২শ’ ৮২ জন জেলেকে উপকরণ সহায়তা তথা গরু-ছাগল, ভ্যান গাড়ি, সেলাই মেশিন, সার, বীজসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ প্রদান করা হবে। জেলেরা যাতে এই সময়ে নদীতে মাছ শিকার না করে সেজন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এখানে আরো উল্লেখ্য, দেশে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৪টি অভয়াশ্রম ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত এলাকায় বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছেন। চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা প্রতি বছর মার্চ মাস হতে এপ্রিল মাস পর্যন্ত, ভোলা জেলার মদনপুর চর ইলিশ থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত, মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা প্রতি বছর মার্চ হতে এপ্রিল পর্যন্ত, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা প্রতি বছর মার্চ হতে এপ্রিল, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার সমগ্র আন্দার মানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকায় প্রতি বছর নভেম্বর হতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অভয়াশ্রম পালিত হয়। এদিকে গত ২৬ ফেব্র�য়ারী থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ডসহ জেলা টাস্কফোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারনার মাধ্যমে জাতীয় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করে। কিন্তু বাস্তবতা জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলাকালীন চাঁদপুর মেঘনা নদীর চিহ্নিত এলাকায় জাটকা নিধন শুরু হয়ে গেছে। সূর্য উঠার আগে প্রতি কেজি জাটকা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় শহরের পাড়া মহল্লা ও গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে এ বছর শুরুতেই জাটকা সংরক্ষণ ব্যহত হবার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
