
কবির হোসেন মিজি
১৮ বছরের নিচে কোনো কন্যা সন্তানকে বিয়ে দেয়া হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারের সে আইন ভঙ্গ করে এগার বছর বয়সী আফসানা আক্তার নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ে দিলেন তার পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের স্ট্র্যান্ড রোডস্থ আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের সামনে একটি বাসায়।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ধানুয়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিন খানের পুত্র রিপন খান তার এগারো বছরের শিশু কন্যা আল আমিন একাডেমী ছাত্রী শাখার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী আফসানা আক্তারকে গত ১৪ অক্টোবর একই এলাকার লুৎফুর রহমান মনার প্রবাসী পুত্র আপেল মাহমুদের সঙ্গে বিয়ে দেন। রিপন খান পেশায় একজন সরকারি চাকুরিজীবী হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদপুর শহরের দর্জি ঘাট এলাকার সরকার বাড়ির সামনে ফজল মোল্লা নামে এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন। ওই ভাড়া বাসায় তিনি লোকজনের ভয়ে তার মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে তিনি কৌশলে সবার অজান্তে চাঁদপুর শহরের স্ট্র্যান্ড রোডস্থ আল আমিন একাডেমীর সামনে একটি বাসায় ছেলে-মেয়ে দু জনকে এনে গোপনে বিয়ে দেন। তবে অনেক অনুসন্ধান করেও যে কাজী বিয়ে পড়িয়েছেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। যে এলাকায় আফসানা আক্তারকে এনে বিয়ে পড়ানো হয়েছে সে এলাকার কাজী হচ্ছেন চাঁদপুর পৌরসভার ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের কাজী আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মোঃ মহিবুল্লাহ পাটওয়ারী। বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি তার বালাম বইয়ে দেখেছেন আফসানা ও আপেল মাহমুদ নামে বর কনের কোনো নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, এই এলাকার বিয়ে রেজিস্ট্রি করানোর দায়িত্ব আমার। অথচ আমিই জানি না। তারা হয়তো গোপনে অন্য কোনো কাজী দিয়ে বিয়ে পড়িয়েছেন।
এ দিকে বিয়ে দেয়ার দু দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে এ বিষয় নিয়ে কথা হয় আফসানার পিতা রিপন খানের সাথে। জানতে চাওয়া হয় তার মেয়ের বিয়ে সম্পর্কে। তিনি নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, না না আমার মেয়েতো স্কুলে পড়ে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কে বলছে আপনাদের এসব কথা। এক পর্যায়ে তিনি এ প্রতিবেদকসহ সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রও দেখতে চান। পরিচয়পত্রও দেখানো হয় তাকে। তারপর ঘটনার সত্যতা জানতে তাকে প্রশ্ন করা হয় আপনার মেয়েকে একটু আমরা দেখবো তাকে ডাকুন। তখন রিপন খান বললেন সে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে গেছে। রিপন খানের এমন মিথ্যে কথা শুনে সেখান থেকে চলে আসার পর আরো অনুসন্ধান করে জানা যায় আফসানার এবং আপেল মাহমুদের বিয়ের ঘটকালি করেন পূর্ব ধানুয়া গ্রামের আলী আকবরের পুত্র ঈমান হোসেন বেপারী, মৃত নূর মিয়া বেপারীর পুত্র আলমগীর হোসেন, মৃত হাসান আলীর পুত্র আজিজ মেম্বার। আফসানা ও আপেল মাহমুদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও এ বিয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আপেল মাহমুদের পরিবারের মধ্যে আরেকটি বাল্য বিয়ের কথা। সে তথ্যে জানা যায় আফসানার স্বামী আপেল মাহমুদের ভাই মামুন খানও অনেক দিন আগে একই গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মিজানুর রহমান বেপারীর ৬ষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করেন।
