প্রতিনিধি
ষড়ঋতু হিসেবে এখন চলছে বসন্তকাল। বাংলা নতুন বছর থেকে শুরু হবে গ্রীষ্মকাল। তবে এখন পড়ছে চৈত্রের প্রচণ্ড খরতাপ। এদিকে গ্রীষ্মের আগেই চারদিকে এখন বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং। মফস্বল এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে বর্তমান সময়ে জেলা শহরে লোডশেডিং তেমন একটা নেই। এটা সিস্টেম সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিগণ। আর এ সমস্যা থেকে কয়েক বছরেও মুক্তি মিলছে না জেলাবাসীর। এ কারণে ইতিমধ্যে গ্রাহকগণ ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। যার কারণে মহাসড়কের আশপাশের গ্রাহকগণ যে কোনো সময় পূর্বের বছরগুলোর মতো সড়ক অবরোধে নেমে পড়তে পারে বলে জানা গেছে।
গ্রামাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পল্লী বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার খেলায় মেতেছে। জেলার হাজীগঞ্জ বাজারসহ তৎসংলগ্ন এলাকা মহামায়া, বাকিলা, বলাখাল, রামচন্দ্রপুর তথা পুরো ফিডারের আওতায় দৈনিক বেশ কয়েকবার করে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার খেলায় মেতে উঠে। তবে ভয়াবহ চিত্র প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। অধিকাংশ মফস্বল এলাকায় দিনের বেলা কোনো রকমে বিদ্যুৎ থাকলেও রাতের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ সন্ধ্যা নামার আগে বিদ্যুৎ গেলে রাত ১২টার আগে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে ঐ সময়টাতে বিদ্যুৎ আসলেও তার স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা। অনেক সময় গভীর রাতে দেয়া হচ্ছে লোডশেডিং।
সম্প্রতি কিছু দিন আগে পর পর দু� রাতে সামান্য বাতাস বয়ে যায় জেলার কিছু কিছু এলাকার উপর দিয়ে। ঐ সামান্য বাতাসের প্রভাবে বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরের দিন দুুপুর পর্যন্ত বন্ধ রাখে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। অর্থাৎ সামান্য বাতাসে পরিস্থিতি এই হলে কাল বৈশাখী ঝড় বা ঝড়ো হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে কী অবস্থা সৃষ্টি হবে তা সহজেই অনুমেয়।
বিদ্যুতের যাওয়া-আসা ও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোডশেডিংকে লোডশেডিং বলতে নারাজ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এটাকে সিস্টেম সমস্যা বলে চাঁদপুর কণ্ঠের নিকট দাবি করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাগণ। জেলার কোথাও বর্তমানে লোডশেডিং নেই এবং এই সিস্টেম সমস্যা সমাধান করতে আরো কয়েক বছর লাগবে বলেও কর্মকর্তাগণ দাবি করেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। যার সবটাই জাতীয় গ্রীড থেকে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইনে ত্র�টি এবং লাইন পুরাতন হওয়ার কারণে প্রয়োজন মতো লোড নিতে না পারায় লাইনে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর এ সমস্যাকে সিস্টেম সমস্যা বলে আখ্যায়িত করে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। হাজীগঞ্জ থেকে কচুয়া উপজেলার মধ্যে মাত্র ৩ কিলোমিটার লাইন আপগ্রেডিং, সকল সঞ্চালন লাইনের পুরাতন তার পাল্টে নতুন ও বেশি লোড ক্ষমতা সম্পন্ন তার লাগানো, বলাখাল এলাকায় নির্মিত ফিডারের কাজ শেষকরণ, চাঁদপুর থেকে শাহরাস্তি পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার ৩৩ হাজার কেভিএ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করার কাজ শেষ হলেই জেলায় বিদ্যুতের সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। মোদ্দাকথা চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় নতুন লাইন স্থাপন ও পুরাতন লাইনগুলোর সংস্কার শেষ হলেই গ্রাহককে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া সম্ভব।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, জেলায় মোট ৫টি ফিডার রয়েছে। এ সকল ফিডারে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পরিমাণের বেশি বিদ্যুৎ ঐ সকল ফিডারের লাইনে সরবরাহ করতে গেলে লাইন ছিঁড়ে পড়বে অথবা সার্টডাউন হবে কিংবা উপকেন্দ্রের ট্রান্সফর্মারে ঘটবে বিপত্তি। আর ইরি বোরো মৌসুমে সেচ যন্ত্র চালু ও গ্রীষ্মের সময় ফ্যানসহ বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। ব্যবহার বেড়ে গেলে ও দুর্বল লাইনের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রাহককে দেয়া সম্ভব নয়। তাই লাইনসহ সকল যন্ত্রপাতি ঠিক রাখতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখতে হয়। আর এটাও পল্লী বিদ্যুতের সিস্টেমের আওতাভুক্ত।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ইউসুফ চাঁদপুর নিউজকে জানান, যন্ত্রপাতি ও লাইন ঠিক রাখতে হবে। নতুন লাইন স্থাপন এবং পুরাতন লাইনের তার পরিবর্তন করা সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত লাইনের উপর চাপ দেয়া যাবে না। কারণ, লাইনের উপর চাপ দিলে হয় তার ছিঁড়বে কিংবা উপকেন্দ্রে ট্রান্সফর্মারের সমস্যা হবে। এ সবের সমস্যা সমাধান হতে ২-১ বছর লাগতে পারে।
