আতাউর রহমান সোহাগঃ
গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রায় এক কোটি টাকার কাজের ভাগাভাগি হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলা রাজস্ব খাতের ও বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিপি) প্রায় এক কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করে দিয়েছে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে । এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ অনেকেই বলছে সঠিক নিয়মে ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হলে লাভবান হতো সরকার ও বিশাল জনগোষ্ঠী।
উপজেলার পৌরসভা বাদে মোট ১৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক মুক্ত ৮৯টি ডিপটিওবয়েল সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে সরকারি ভাবে মোট ৯৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
প্রতিটি কাজের দরপত্র মূল্যের ৫ পারসন আদায় করে এসব টেন্ডার কাজ ভাগবাটোয়ারা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে করে কাজের গুনগত মান কেমন হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে গোপন সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়ে পেশাদার ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় ও দাখিল করতে না পেয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের উন্নয়ন তহবিল ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আওতায় মোট ২৬টি গ্রুুপে টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে আর্সেনিকমুক্ত ৮৯টি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন সহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন মুলক কাজ । গত ১৫ এপ্রিল দরপত্র আহবান করা হলেও দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ ছিল ২৯ এপ্রিল আর দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল। তবে গোপন সিন্ডিকেটের কারনে কোন দরপত্রই বিক্রি না করে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখে তা ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি গ্রুপের মধ্যে মোট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দরপত্র বিক্রি ও দাখিলের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কোন দরপত্র বিক্রি করা হয়নি। শুধু মাত্র দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল দরপত্র বিক্রি ও দাখিল করে উক্ত কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করতে অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে মাত্র।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, এলজিইডি বিভাগের ফরিদগঞ্জ অফিস ম্যানেজ করে এসব কাজ ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। ওই কাজ পেতে ৫ পারসন আদায় করে তা বিক্রি করেছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। নাম প্রকাশ না করার সর্তে সরকার দলীয় এক নেতা বলেন, তার এলাকায় ৬ লাখ টাকার কাজ পেতে ৫ পারসন হারে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে সিন্ডিকেটের প্রধান সহকারীর হাতে। কাজ না পাওয়া ক্ষুদ্ধ কয়জন ঠিকাদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানায়, যে হারে নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ দেয়া হয়েছে। এতে করে উক্ত কাজ পেতে সব খরচ মিটিয়ে পরে নিজের লাভের আশায় কাজের গুনগত মান কি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান বলেন, আমার ঠিকাদারী লাইসেন্স থাকলেও ওই কাজ পেতে দরপত্র ক্রয় করাতো দুরের কথা, উল্টো সরকার দলীয় নেতারাই তাদের দলীয় ঠিকাদারকে উক্ত কাজের দরপত্র ক্রয় করতে দেয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগের হিসাব রক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, উক্ত কাজের দরপত্র বিক্রি করার জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কেউ দরপত্র ক্রয় করতে না পারলে আমাদের করার কি আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিনিধির উদ্দেশ্য বলেন, আপনিতো এ এলাকারই, সবইতো বুঝেন।
উপজেলার এলজিইডি বিভাগের নবাগত প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদার গতকাল তার কার্যালয়ে এক আলাপে এ প্রতিনিধিকে বলেন, এখানে আমার যোগদানের পূর্বে ওই কাজের টেন্ডার দেয়া হয়েছে। তবে উক্ত কাজের টেন্ডার কমিটির সভাপতি হলেন ইউএনও স্যার , টেন্ডার কাজের অনুমোদনের ক্ষমতা দেয়া আছে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে।
তবে এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জের উপজেলা চেয়াম্যান আবু সাহেদ সরকার সাংবাদিকদের জানান, সব নিয়মনীতি মেনেই ওই কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ৫ পারসন আদায় প্রসংঙ্গে করার জবাব এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বরাদ্দ করা ওই টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সরকারি সকল কিছুই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে হয়েছে।
শিরোনাম:
রবিবার , ৮ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
