মিজান লিটন
মাত্রাতিরিক্ত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে চাঁদপুর-ঢাকা রূটে চলাচলকারী পদ্মা এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ওই ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি ২/১ দিনের মধ্যে প্রশাসন এর একটা বিহিত না করলে তারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেবেন। মালিক সমিতির ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছে যাত্রী সাধারণ। গতকাল অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় টার্মিনালে অপেক্ষা করে বাসা বাড়িতে ফেরৎ যেতে হয়েছে।
মালিক সমিতি জানায়, প্রতিদিন তাদের একটি বাস ঢাকা-চাঁদপুর ঘুরে আসতে সর্বমোট সাড়ে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ তারা পাচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এভাবে চালাতে গিয়ে তাদের ব্যবসার পরিবর্তে ঋণের পরিমাণ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।
একজন মালিক বলেন, প্রতিদিন একটি বাস ঢাকা কাউন্টার ছাড়ার সময় ১৭শ� থেকে ১৮শ� টাকা চাঁদা দিতে হয়। ২টা ব্রিজে আসা-যাওয়ার টোল ৮শ� টাকা। চাঁদপুর কাউন্টার ছাড়ার সময় দিতে হয় ৩৫০ টাকা। স্টাফ বেতন ১৫শ� থেকে ২ হাজার টাকা। জ্বালানি খরচ হয় ৭ হাজার টাকা। পার ট্রিপে মবিল এবং লুব্রিকেট ব্যয় ১ হাজার থেকে ১২শ� টাকা। তারপর টায়ার খরচসহ রয়েছে বিবিধ খরচ।
তিনি আরো বলেন, একটা সময় চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে বাস যাতায়াত করতো। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরো বেশ ক�টি সার্ভিস চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই-ঢাকা রূটে জৈনপুর পরিবহন। মুন্সীরহাট-মতলব-পেন্নাই-ঢাকা রূটে মতলব এক্সপ্রেস, হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা-বিশ্বরোড-ঢাকা রূটে তিশা। রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা বিশ্বরোড-ঢাকা রূটে আল আরাফা। শাহ্রাস্তির সূচীপাড়া-নরিংপুর-দোয়াভাঙ্গা-কুমিল্লা বিশ্বরোড-ঢাকা রূটে চলছে শাহ্রাস্তি সুপার এবং হোসেনপুর-কচুয়া-সাচার-ঢাকা রূটে চলছে সুরমা এক্সপ্রেস। ফলে স্বাভাবিক কারণেই দিন দিন পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রী কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে যখন মালিকদের এমনিতেই ত্রাহি অবস্থা তখন যতোই দিন যাচ্ছে ততোই চাঁদাবাজি বাড়ছে। ফলে অতিষ্ঠ হয়েই মালিক সমিতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
পদ্মা ট্রান্সপোর্টের মালিক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ইতিমধ্যে আমরা চাঁদাবাজি বন্ধে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আজ (বুধবার) চাঁদপুর ও ঢাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হবে। যদি প্রশাসন চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেন তবে অবশ্যই আমাদের পরিবহন চলবে। অন্যথায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়া ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না।
