চাঁদপুরের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র সাহেদ চৌধুরী (১৫) হত্যার ১মাস ৩দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাহেদের গ্রামের বাড়ী ফরিদগঞ্জ সুবিদপুর গ্রাম থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ সাদিদের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার ও ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জুয়েলসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাহেদের স্বজন ও মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোড ডাঃ মোবারক হোসেন চৌধুরীর বাসায় কে বা কারা সাহেদের মাথায় ও মুখে মারাত্মক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে জানায়। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি থানা পুলিশকে না জানিয়ে গ্রামের বাড়ী সুবিদপুরে সাহেদের লাশ দাফন করে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে দীর্ঘ ২৬দিন পর হতভাগ্য সাহেদ চৌধুরীর মা নাসরিন রহমান ওরফে মিতা চৌধুরী ৫ মে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার সাহেদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ৮ মে আদালতে আবেদন করেন। ১২ মে চাঁদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট অসীম কুমার দে লাশ উত্তোলনের জন্য আদেশ প্রদান করেন। তারই ভিত্তিতে সাহেদের লাশ উত্তোলন শেষে ময়না তদন্তের জন্য বিকাল ৩টায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ কাইয়ুম জানান, মামলার তদন্তকাজ অনেকটা শেষ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যার সাথে জড়িতেদের চিহ্নিত করা অনেকটা সহজ হবে।
উল্লেখ্য, মৃত প্রকৌশলী রহমান চৌধুরীর একমাত্র ছেলে সাহেদ চৌধুরী তার মা ও তার বোন হীরা চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোড ডাঃ মোবারক হোসেন চৌধুরীর বাড়ীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। ঘটনার পর বাড়ীর মালিক মোবারক চৌধুরী পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করে আসে।

