
প্রতিনিধি
চাঁদপুর শহরে চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু পাটওয়ারী হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখন পুলিশের কাছে অনেকটা পরিষ্কার। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এবং আসামী আটক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাচ্ছে না। এ দিকে নানা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নান্নু পাটওয়ারী হত্যার সাথে জড়িতদের সম্পর্কে সন্দেহের তীর তার পরিবারের সদস্যের দিকে যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী উজ্জ্বলের বক্তব্য গতকাল আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। এ মামলার সাক্ষী হিসেবে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।
২০ মে মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোড এলাকায় নিজ বাড়ির বসত ঘরের ভেতর নৃশংসভাবে খুন হন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক ওরফে নান্নু পাটওয়ারী। এ হত্যাকাণ্ডের নির্মমতায় পুরো শহর জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চাঁদপুর শহরে একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবার এবং নিহতের ভাই মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার ও একজন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় এ পরিবারটির ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এ পরিবারের একজন সদস্যের এমন নির্মম পরিণতি হওয়ায় শহর জুড়ে এটি ছিলো আলোচিত ঘটনা। প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সর্বোচ্চ মহলে এটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ দিকে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বাড়ির
কেয়ারটেকার উজ্জ্বলকে পুলিশ তাদের হেফাজতে আনতে পেরে তার বক্তব্য পুলিশের তদন্ত কাজে অনেকটা সহায়ক হচ্ছে। উজ্জ্বলের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। এ হত্যা মিশনে ৫-৬ জন ছিলো এবং এর মূল হোতা নান্নু পাটওয়ারীর পরিবারের সদস্য। এমনকি এ হত্যা মিশনে মূল হোতা নিজেই উপস্থিত ছিলো বলে জানা গেছে। নানা সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন নান্নু পাটওয়ারীর মেঝো ভাই মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটওয়ারী। এ ব্যাপারে তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে যেই আসুক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। ঘাতক যদি আমার ভাই, আমার বাপও হয় তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে কোনো আপোষ নেই।
