প্রতিনিধি
গতকাল সোমবার বিকেলে হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের বাকিলা সরকার বাড়ির বাক প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়ার স্ত্রী শিরিনা বেগম সবার অজান্তে বসতঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলে গলায় ফাঁস দেয়। শিরিনা বেগমের বাবা-মাসহ কারো পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।
ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, স্ত্রী শিরিন বেগমের আত্মহত্যায় বাকপ্রতিবন্ধী স্বামী সেলিম মিয়ার বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বাড়িতে লাশ দেখতে আসা কেউ সেলিম মিয়া ও তার অবুঝ ৩ সন্তানের কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। ২ ছেলে ১ মেয়ের জনক সেলিম মিয়া ৩টি সন্তানকে কোলে নিয়ে মাটিতে বসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা কারো জানা নেই। অপর প্রান্তে পাশের ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলছে নিজের জীবন সঙ্গিনী শিরিনার লাশ। শত শত উৎসুক এলাকাবাসী লাশ দেখছে আর পাশে সেলিম মিয়া কেঁদেই চলছে। এ কান্না যেনো থামবার নয়।
স্থানীয় বাকিলা বাজারে বাসস্ট্যান্ডে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে সেলিম। বোবা নামে সবাই তাকে চিনে। কারো সাথে কোনো দিন তার ঝগড়া হয়েছে কিনা বাকিলা এলাকার কেউ বলতে পারবে না। ৩টি সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে সুখেই ছিলো সেলিমের সংসার। বছরখানেক হলো হঠাৎ করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে স্ত্রী শিরিনা বেগম। তারপরই কিছু পুরুষের মতো সেলিম মিয়া স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়নি কিংবা তালাক দেয়নি। স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েছে।
সেলিম মিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বেশ কিছুদিন হলো শিরিনা বেগমের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এ নিয়ে বহু কবিরাজ, ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু গলায় ফাঁস দিয়ে গতকাল সকল কিছুর অবসান ঘটায় শিরিনা বেগম। রেখে যায় তার নাড়ি ছেড়া ৩ সন্তান আর প্রাণপ্রিয় স্বামী সেলিম মিয়াকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলকে হা-হু শব্দ করে সেলিম মিয়া বুঝায় এই ৩টি সন্তান নিয়ে সে কী করবে, কার কাছে যাবে, কে দেখবে তার এই ৩টি সন্তানকে।
