ফাহিম শাহরিন কৌশিক খান
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সংসারে কলহের কারণে ২ সন্তানের জননী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আত্মহত্যার পেছনে গভীর রহস্য লুকায়িত আছে বলে অনেকে গুঞ্জন করতে শোনা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চান্দ্রা ইদ্রিস পাটওয়ারীর বাড়ি আব্দুল রব পাটওয়ারীর বসত ঘরে এ ঘটনা ঘটে। সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লাড়–য়া গ্রামের ইদ্রিস বেপারীর মেয়ে কুলছুমা বেগমের সাথে বিগত ১৪ বছর পূর্বে সদর উপজেলা চান্দ্রা ইউনিয়নের মুখলেছ পাটওয়ারীর ছেলে আব্দুর রব পাটওয়ারীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর গত ৩ বছর বিদেশে থাকাবস্থায় তার স্ত্রী কুলছুমা বেগমের সাথে চান্দ্রার বশির উল্যাহ জমাদারের ছেলে মোহাম্মদ জমাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল রব পাটওয়ারী জানতে পেরে বিদেশ থেকে গত ২ মাস পূর্বে দেশে ফিরে ঘটনা সম্পর্কে জানে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডার ও মারধরের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত ২৭ এপ্রিল প্রবাসী আব্দুর রব পাটওয়ারী তার স্ত্রীর কাছে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসেব চাওয়ায় সে কোনো সদোত্তর দিতে পারেনি। গত ২৯ এপ্রিল স্বামীর সাথে অভিমান করে কুলছুমা বেগম বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি রেখে ৩০ এপ্রিল স্বামী আব্দুর রব পাটওয়ারী বিদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। বিদেশ যাওয়ার পর থেকে কুলছুমা বেগম তার পরকিয়া প্রেমিকের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করে সম্পর্ক তৈরি করে।
ঘটনার দিন দুপুরে অজ্ঞাত কারণে তার বসতঘরে আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঐদিন দুপুর ২টায় কুলছুমা বেগমের দু’ মেয়ে রুনা (১০) ও নিহা আক্তার (৮) চান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ক্লাস শেষে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে খাবার দেয়ার জন্য মাকে ডাকাডাকি করে। কুলছুমা বেগমের সাঁড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে ডুকে দু’ শিশু কন্যা মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ডাক চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার দাদী ছকিনা বেগম (৭০) ঘরে এসে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেলের বউকে দেখতে পেয়ে বাড়ির অন্যান্যদের জানান। খবর পেয়ে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’ সন্তানের জননী কুলছুমা বেগমকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে। এ সময় তাকে দেখার জন্য চান্দ্রা এলাকায় শ’শ’ পুরুষ মহিলা ইদ্রিস পাটওয়ারীর বাড়িতে এসে ভিড় জমায়।
মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে শ্বাশুড়ি ছকিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তার পাশের জমাদার বাড়ি বশির জমাদারের ছেলে মোহাম্মদ জমাদার বাড়ির সামনে ধানের মেইল বসিয়ে প্রতিদিন দিনে ও রাতে ছেলের বউ কুলছুমা বেগমের কাছে এসে কথা বলতো। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। স্বামী আব্দুর রব জানতে পেরে বিদেশ থেকে এসে সবকিছু মেনে নিয়ে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করে। গত ৩০ তারিখে বিদেশ যাওয়ার আগের দিন কুলছুমা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। অজ্ঞাত কারণে ঘটনার দিন সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, কুলছুমা বেগমের সাথে দীর্ঘদিন যাবত মোহাম্মদ জমাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। ঘটনার দিন দুপুরে কুলছুমাকে মেরে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। কারণ কুলছুমা যদি আত্মহত্যা করতো, তাহলে তার পুরো শরীর মাটি থেকে পা উপরে থাকতো। অথচ দেখা গেছে তার পা মাটির সাথে লেগে ছিলো। মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে মোহাম্মদ জমাদার তার ধানের মেইল খোলা রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
শিরোনাম:
সোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
